বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীরাও ‘বিচারাধীন’! ভোটার তালিকায় ‘অ্যাডজুডিকেটেড’ স্ট্যাম্প ঘিরে নজিরবিহীন চাঞ্চল্য
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বের হলে দেখা যায় সেখানে বেলুড় মঠের মহারাজদের অনেকেরই নামের উপর 'অ্যাডজুডিকেটেড' স্ট্যাম্প পড়েছে।
সুমন আদক,হাওড়া: বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীদেরও অনেকেরই ভোটার লিস্টে ‘বিচারাধীন’ নাগরিকদের মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে সরব তৃণমূল কংগ্রেস।মাস দেড়েক আগে এসআইআর চলাকালীন বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীদের শুনানিতে ডাকা হয়। তাঁদের শুনানিতে ডেকে সব নথি দেখতে চাওয়া হয়।তাঁরা সেসব নথি পেশ করেছিলেন। কিন্তু ফের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বের হলে দেখা যায় সেখানে বেলুড় মঠের মহারাজদের অনেকেরই নামের উপর ‘অ্যাডজুডিকেটেড’ স্ট্যাম্প পড়েছে। অর্থাৎ তাঁদের বিচারধীনদের মধ্যে ফেলা হয়েছে। আর এই নিয়েই দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। বালি বিধানসভা কেন্দ্রের ৮৫ ও ৮৭ নম্বর অংশে রয়েছে বেলুড় মঠের আবাসিক সন্ন্যাসীদের নাম। এতদিন পর্যন্ত সন্ন্যাসীদের কাউকে কখনও ভোটের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।
রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শ মেনে সন্ন্যাসীরা কোনও রাজনৈতিক মতের পক্ষ নেননা। তাঁরা ভোটেও অংশও নেন না। কিন্তু, যেহেতু ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক রীতি ও একপ্রকার নাগরিকত্বের পরিচয় বাহক এবং নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসাবে ভোটার পরিচয়পত্র কাজে লাগে সেজন্য বেলুড় মঠের মহারাজদের প্রায় সকলেরই ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে। কিন্তু কেন তাঁদের অনেকের নামের উপর ‘অ্যাডজুডিকেটেড’ স্ট্যাম্প পড়ল তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এই নিয়ে এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন হাওড়া জেলা যুব তৃনমুল সভাপতি কৈলাশ মিশ্র। তিনি এরজন্য নির্বাচন কমিশনারকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তোলেন। অন্যদিকে, বিজেপির হাওড়া জেলা সদরের সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা। তৃণমূলের তরফ থেকে এই কাজ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই কাজ হয়েছে। বেশিরভাগ হিন্দু ভোটারের নাম বাদ গেছে।
উল্লেখ্য, বাংলায় নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি সারতে এসে জোর গলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দাবি করেছেন, ন্যায্য ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না।সেই দাবি করেই আবার তিনি ঘুরেছেন কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ।অথচ সেই বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীই চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় অ্যাডজুডিকেশন বা বিচারাধীন তালিকাভুক্ত। আর তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।





