ভেটেরিনারি শিক্ষা- গবেষণায় ভারত জার্মানি কানাডা একজোট
এদের সহায়তা করবে কানাডার দুটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের ছয়টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়।
রাহুল চট্টোপাধ্যায়: ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ নিতে চলেছে সরাসরিভাবে ভারতের চারটি এবং জার্মানীর তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। আগেই এই বিষয়ে এই সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজেদের মধ্যে এম ও ইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতবছর এপ্রিলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বৈঠক করে। এবার এদের সহায়তা করবে কানাডার দুটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের ছয়টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়। এই নিয়ে সম্প্রতি লুধিয়ানার গুরু অঙ্গদদেব ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে হয়ে গেল ইনডিভেট নেট-ওয়ার্ক সামিট২০২৬ –
শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালা ও বৈঠক।

এতে ভারত, জার্মানী ও কানাডার ৪০ জন প্রতিনিধি যোগ দেন। আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, তামিলনাড়ু ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, বিহার অ্যানিম্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-গবেষক প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেয়। অন্যদিকে, জার্মানীর লিপজিগ্ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন, হ্যানোভার, ফ্রাই ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এতে যোগ দেন। এছাড়াও ছিলেন ভারতের আইভিআরআই, এনআইএএনপি, আইজিআইবি, এসভিভিইউ, এসআরএমইউ ও বি আই টি এস- পিলানি এবং জার্মানীর এফএলআই, কানাডার সাকসাচুয়েন ও ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। সিদ্ধান্ত হয় আগামী দিনে ভেটেরিনারি মেডিসিনে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তনরোধী ভেটেরিনারি মেডিসিন তৈরিতে প্রহোৎসাহ, অতিমারি রুখতে প্রস্তুতি এবং ওয়ান হেল্থ নিয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জার্মানী, কানাডা ও ভারতীয় ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষক ও ছাত্র আদান প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই যৌথ প্ল্যাটফর্ম এই তিন দেশের ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণাকে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই ইন্ডিভেট নেট-ওয়ার্কের জার্মান কো-অর্ডিনেটর ড. আহমেদ ওয়াহেদ। ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ভারতীয় গবেষক ও পড়ুয়ার কাছে এই প্ল্যাটফর্মটি একটি মস্ত বড় পাওনা এবং ভবিষ্যতে নিজেকে আরও গড়ে তোলার ক্ষেত্র হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় কো-অর্ডিনেটর তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার। উল্লেখ্য, এই যৌথ উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি কোর-কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতিমাসের দ্বিতীয় সোমবার অন-লাইন মিটিং এ কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।


