খেলা

ইডেনের বাইশ গজে ভর করে বাঁচবে কি ভারতের সেমিফাইনালের স্বপ্ন?

সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যেসব পিচে ভারত খেলেছে, তার সঙ্গে বিশ্বকাপের উইকেটের চরিত্রের বিস্তর ফারাক।

Truth Of Bengal: আগামী ১ মার্চ ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগে ভারতের ভাগ্য কোন খাতে বইবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে সম্ভাবনার আলো যদি তখনও জ্বলে থাকে, তা হলে সেই ম্যাচটাই হয়ে উঠতে পারে সূর্যকুমার যাদবদের জন্য শেষ চারের টিকিট নির্ধারণের আসল মঞ্চ। এতদিন যে বিশ্বকাপের পিচ ভারতের সঙ্গে খুব একটা সদয় ব্যবহার করেনি, সেই ভাগ্যও হয়তো বদলাতে পারে ইডেনের বাইশ গজে।

মন্থর পিচে ব্যাটিং বিপর্যয়

সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যেসব পিচে ভারত খেলেছে, তার সঙ্গে বিশ্বকাপের উইকেটের চরিত্রের বিস্তর ফারাক। বল পড়ে গতি হারাচ্ছে, ব্যাটে আসতে দেরি করছে, ফলে টাইমিংয়ে সমস্যা হচ্ছে ব্যাটারদের।
আমদাবাদের ম্যাচেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতে ধাক্কা খেলেও নিজেদের সামলে নেয়। ভারত সে সুযোগ পায়নি। ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হার পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। নেট রান রেট নেমে দাঁড়ায় মাইনাস ৩.৮০-এ।

এখন সমীকরণ জটিল। জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতিমধ্যেই জিম্বাবোয়েকে ১০৭ রানে হারিয়ে নিজেদের নেট রান রেট বাড়িয়ে নিয়েছে ৫.৩৫-এ।

অন্য ম্যাচের ফলও সমান গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের উপর। যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই লড়াই জিতে যায়, তবে ভারতের আশা কার্যত সুতোর উপর ঝুলবে। শেষ দুই ম্যাচ জিতেও তখন শেষ চারে পৌঁছনো অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার, আর ভারতের পরপর দুই জয়। সে ক্ষেত্রে ইডেনের ম্যাচটি কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের রূপ নেবে।

ইডেনের পিচে কি বদলাবে ভাগ্য?

ক্রিকেটমহলে শোনা যাচ্ছে, ইডেনের পিচ অন্য কেন্দ্রগুলির মতো মন্থর হবে না। এখানকার মাটির ধরন আলাদা—‘ব্ল্যাক কটন সয়েল’, যা উইকেটকে দৃঢ়তা দেয়। ফলে বল পড়ে থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বাউন্স ও ক্যারি থাকবে স্বাভাবিকের চেয়ে ভাল।

একজন মাঠকর্মীর কথায়, এই পিচে ২০০-র বেশি রান তোলা সম্ভব। অর্থাৎ ব্যাটাররা শট খেলতে আত্মবিশ্বাস পেতে পারেন।

প্রথম ওভারেই কি টার্নের ভয়?

আমদাবাদে প্রথম ওভারেই অফস্পিনে উইকেট পড়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ইডেনেও কি শুরু থেকেই বল ঘুরবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইডেনে কিছুটা টার্ন মিললেও তা প্রথম ওভার থেকেই তেমন প্রভাব ফেলবে না। এখানকার মাটির গঠন বলকে স্থির বাউন্স দেয়, আচমকা থেমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুরে যাওয়া সাধারণত দেখা যায় না।

নতুন আশার আলো

পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, ইডেনের পিচ ভারতের কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। মন্থর উইকেটের দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে যদি ব্যাটাররা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেন, তা হলে শেষ চারের স্বপ্ন আবার জেগে উঠতেই পারে। এখন অপেক্ষা, মাঠে সেই প্রতিফলন দেখা যায় কি না।