সটান ক্লাসে ঢুকে শিক্ষককে মেজাজ দেখালেন বিজেপি বিধায়ক, বাঁকুড়ায় শোরগোল
ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: বলা নেই, কওয়া নেই। ক্লাস চালাকালীন সটান ক্লাসে ঢুকে ক্লাসের মেঝে এত নোংরা কেন খোদ শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলেন বিধায়ক।বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের কুশমুড়ি হাইস্কুলে ক্লাস চলাকালীন অনুমতি ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়ালেন ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া। ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে। যদিও পরে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বিধায়ক।স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো এদিনও চতুর্থ পিরিয়ডে ক্লাস চলছিল। দোতলার একটি হলঘরে অষ্টম শ্রেণির বাংলার ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক গোলোক বিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎই অনুমতি না নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়েন বিধায়ক নির্মল ধাড়া। ঢুকেই তিনি ক্লাসরুমের মেঝে নোংরা কেন, তা নিয়ে শিক্ষকের কাছে প্রশ্ন তোলেন।শিক্ষক জানান, স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী বা স্থায়ী সাফাইকর্মী নেই। পড়ুয়ারাই পালা করে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার রাখে, শিক্ষক-শিক্ষিকারাও হাত লাগান। ওই দিনও চতুর্থ পিরিয়ডের পর ঘর পরিষ্কার করার কথা ছিল। এরপর শিক্ষক বিধায়কের কাছে জানতে চান, কেন তিনি অনুমতি ছাড়াই ক্লাসে প্রবেশ করলেন।
অভিযোগ, এই প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন বিধায়ক। পড়ুয়াদের সামনেই শিক্ষকের সঙ্গে তুমুল বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। আঙুল তুলে প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে অনুমতি নিতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডার পর শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে ঝাড়ু হাতে স্কুল চত্বর পরিষ্কার করতেও দেখা যায় তাঁকে।
এই ঘটনায় অপমানিত ও ক্ষুব্ধ শিক্ষক গোলোক বিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে অনুমতি ছাড়া ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ার বিষয়টি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেন বিধায়ক নির্মল ধাড়া। তবে শিক্ষাঙ্গনে জনপ্রতিনিধির এহেন আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কড়া ভাষায় নিন্দা জানানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক আচরণবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।






