দেশ

মহুয়া-পিকে ‘ভুয়ো’ চ্যাট কাণ্ড! অভিযুক্তকে ধরতে নয়ডায় গিয়ে যোগী-পুলিশের বাধার মুখে বাংলার পুলিশ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।

Truth of Bengal: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কংগ্রেস নেতা প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত চ্যাট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশে চরম হেনস্তার মুখে পড়ল বাংলার পুলিশ। কৃষ্ণনগর থেকে নয়ডায় অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অসহযোগিতা এবং কার্যত বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত নয়ডার বাসিন্দা সুরজিৎ সেনগুপ্ত নামে এক ব্যক্তির একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেছিলেন, মহুয়া মৈত্র ও প্রশান্ত কিশোরের মধ্যে ‘ব্যক্তিগত কথোপকথন’ হয়েছে, যার স্ক্রিনশট তিনি এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ করেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই চ্যাট ভাইরাল হয়ে গেলেও কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগ পরীক্ষা করে জানায় যে, চ্যাটটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তৈরি করা হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, অভিযুক্ত সুরজিৎ সেনগুপ্ত বিজেপির মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করলেও তিনি হাজিরা দেননি। এরপর আদালতের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চার সদস্যের একটি বিশেষ দল নয়ডায় পৌঁছায়। কিন্তু নয়ডার ‘ফেজ টু’ থানার পুলিশ বাংলার পুলিশ কর্মীদের সাহায্য করার বদলে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ থানায় বসিয়ে রাখে বলে অভিযোগ।

বাংলার পুলিশের দাবি, নয়ডার স্থানীয় চৌকি নম্বর ১১০-এর পুলিশ সদস্যরা তাঁদের কাজে বাধা দেন এবং আদালত নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাংলার পুলিশ কর্মীদের থানায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এই নজিরবিহীন অসহযোগিতার কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত সুরজিৎ সেনগুপ্তকে ধরা সম্ভব হয়নি।

Related Articles