আর পারছি না…”, ২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বড় ঘোষণা চিরঞ্জিতের!
মূলত শারীরিক ক্ষমতা এবং বয়সের কথা বিবেচনা করেই তাঁর এই অনীহা।
Truth of Bengal: বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের সময় থেকে বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার জয়ী হয়ে এই তারকা বিধায়ক নিজের জয়ের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেছেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। শনিবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিরঞ্জিত স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে তিনি আর লড়তে আগ্রহী নন। মূলত শারীরিক ক্ষমতা এবং বয়সের কথা বিবেচনা করেই তাঁর এই অনীহা।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে চিরঞ্জিত জানান, রাজনীতির ময়দান অত্যন্ত পরিশ্রমের জায়গা। তাঁর মতে, মানুষের জন্য কাজ করতে যে বিপুল প্রাণশক্তি বা এনার্জির প্রয়োজন হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কিছুটা কমেছে। বিধায়কের কথায়, তিনি এখন আর আগের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারছেন না। এমনকি সিনেমার পর্দায় যেমন ফাইটিং দৃশ্য থেকে তিনি সরে এসেছেন এবং চরিত্রের ধরন বদলেছে, তেমনই রাজনীতির ব্যস্ত জীবন থেকেও তিনি এবার বিরতি নিতে চাইছেন। পরিবর্তনকে মেনে নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চান।
অবশ্য রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা চিরঞ্জিত এই প্রথম প্রকাশ করলেন এমনটা নয়। এর আগেও গত দুটি নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি ভোটে না দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে এবং তাঁর ওপর দলনেত্রীর অগাধ আস্থার কারণে তিনি পিছু হটতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই রুপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা চিরঞ্জিত প্রতিবারই নেত্রীর আস্থার মর্যাদা দিয়েছেন বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে।
আসন্ন ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁকে ফের বিধানসভায় দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও চিরঞ্জিত একটি বিকল্প পথ খোলা রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর আর লড়াই করার ইচ্ছে না থাকলেও যদি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আবারও প্রার্থী করতে চান, তবে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ থাকে। নেত্রীর নির্দেশ তাঁর কাছে শিরোধার্য হলেও নিজের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির কথা তিনি খোলামেলাভাবেই স্বীকার করেছেন। এখন দেখার, তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব বারাসতের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর ইচ্ছাকে মর্যাদা দেয় নাকি ফের তাঁকে লড়াইয়ের ময়দানে নামায়।






