তামাকজাত পণ্যের ওপর জারি কঠোর নিষেধাজ্ঞা! বড় পদক্ষেপ বিজেপিশাসিত রাজ্যের
এখন থেকে এই আইন অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
Truth of Bengal: ওড়িশায় গুটখা ও তামাকজাত পণ্যের ওপর জারি হল কঠোর নিষেধাজ্ঞা। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার রাজ্যে যাবতীয় গুটকা ও পানমশলার উৎপাদন, মজুত এবং বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যদিও ওড়িশায় ২০১৩ সাল থেকেই প্রকাশ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রিতে বিধিনিষেধ ছিল, তবে এবার সেই আইনকে আরও শক্তিশালী ও নিশ্ছিদ্র করতে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এখন থেকে এই আইন অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে একটি বিশেষ কৌশল লক্ষ্য করা গেছে। ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক তামাকযুক্ত পানমশলা নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিলেও, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছিল যে ব্যবসায়ীরা আইন এড়াতে জর্দা ও মশলা আলাদাভাবে বিক্রি করছেন। ক্রেতারা সেই দুটি পণ্য আলাদা কিনে মিশিয়ে নিচ্ছিলেন, ফলে নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য সফল হচ্ছিল না। এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে ওড়িশা সরকার এবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো খাদ্যপণ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাক বা নিকোটিন ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি জর্দা ও মশলা আলাদাভাবে বিক্রি করাও এখন থেকে নিষিদ্ধ।
তবে সরকারের এই নতুন নির্দেশিকায় বিড়ি এবং সিগারেটকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। একইভাবে অ্যালকোহল বা মদের ওপরও কোনো বিধিনিষেধ চাপানো হয়নি। তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে এই অভিযানে বিড়ি-সিগারেটকে ছাড় দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় যদি গুটখা নিষিদ্ধ করা হয়, তবে ফুসফুসের ক্ষতি করা বিড়ি বা সিগারেটের ক্ষেত্রে কেন নমনীয় অবস্থান নেওয়া হলো, তা নিয়ে চর্চা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে বিশাল অঙ্কের রাজস্বের অঙ্ক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার সিগারেটের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করেছে, যার ফলে রাজ্য সরকারের কোষাগারেও মোটা টাকা রাজস্ব হিসেবে জমা হবে। বিড়ি বা সিগারেট নিষিদ্ধ করলে সেই আয়ে টান পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। মূলত সরকারি আয় বা রাজস্বের ক্ষতি এড়াতেই ওড়িশা সরকার এই তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।






