৭৮ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর বদল, কবে থেকে নতুন দফতরে বসবেন প্রধানমন্ত্রী?
রাইসিনা হিল সংলগ্ন ‘এক্সিকিউটিভ এনক্লেভট’ এলাকাতেই গড়ে উঠেছে তিনটি আধুনিক ভবন।
স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার সাউথ ব্লক ছাড়তে চলেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও)। প্রায় ৭৮ বছর ধরে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লকেই ছিল দেশের প্রধানমন্ত্রীর কর্মস্থল। তবে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে সেন্ট্রাল ভিস্তার নতুন ‘এক্সিকিউটিভ এনক্লেভট’-এ স্থানান্তরিত হতে চলেছে পিএমও দফতর। গত বছরের আগস্ট মাসেই এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষের দিকেই নতুন দফতরে কাজ শুরু করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রাইসিনা হিল সংলগ্ন ‘এক্সিকিউটিভ এনক্লেভট’ এলাকাতেই গড়ে উঠেছে তিনটি আধুনিক ভবন। গোটা এই কমপ্লেক্সটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সেবাতীর্থ’। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নতুন দপ্তর থাকবে ‘সেবাতীর্থ-১’ ভবনে। বাকি দু’টি ভবন— ‘সেবাতীর্থ-২’ এবং ‘সেবাতীর্থ-৩’— যথাক্রমে ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
‘সেবাতীর্থ’ নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে ‘জনসেবা’-র দর্শন। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রশাসনের মূল লক্ষ্য মানুষের সেবা— এই ভাবনাকেই তুলে ধরতে এমন নাম বেছে নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সঙ্গে সেবার চেতনাকে যুক্ত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
এদিকে, সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লককে মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালায় রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথাও আগেই ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের নাম ‘যুগ যুগিন ভারত সংগ্রহালয়’। ইতিমধ্যেই জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এবং ফ্রান্সের একটি মিউজিয়াম উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নতুন এই সংগ্রহশালায় ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভাবনার এক বিস্তৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হবে। প্রশাসনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণের এই উদ্যোগকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






