কুণাল-অভিষেক মুখোমুখি জেরার পরেই বড় অ্যাকশন! সই জাল কাণ্ডে এবার সরাসরি বিধানসভায় সিআইডি
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, স্পিকারের সচিবালয় থেকে রেজোলিউশন কপি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেই তাঁদের এই তৎপরতা
Truth of Bengal: বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে তদন্তে এবার নতুন মোড়। সোমবার দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছন সিআইডি অফিসাররা। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, স্পিকারের সচিবালয় থেকে রেজোলিউশন কপি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেই তাঁদের এই তৎপরতা। এই মামলায় ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু’দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। পাশাপাশি একাধিক বিধায়ককেও ডেকে বয়ান নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কুণাল ঘোষ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়েও প্রশ্ন করা হয় বলে খবর। সিআইডি সূত্রে দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেকের বয়ানে একাধিক অসংগতি ধরা পড়েছে। ফলে তদন্তকারীরা এখনও তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন বলেই মনে করা হচ্ছে।
সই জাল কাণ্ডের তদন্তে দীর্ঘদিন ধরেই রেজোলিউশনের কপি খুঁজছে সিআইডি। সেই নথির সন্ধানে এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়েও তল্লাশি চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তবে দীর্ঘ তল্লাশির পরও কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি মেলেনি। কার্যত খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল তাঁদের। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশের পর সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে একাধিকবার রেজোলিউশন কপির অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু তিনি কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি বলে তদন্তকারী মহলের দাবি। বারবার ‘জানি না’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ। এরপর রবিবার কুণাল ঘোষ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়ে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু তাতেও তদন্তকারীদের হাতে কাঙ্ক্ষিত তথ্য আসেনি বলেই জানা যাচ্ছে। বরং অভিষেকের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে বলে সিআইডি সূত্রে খবর। সেই কারণেই এবার সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে নথি যাচাইয়ের পথে হাঁটলেন তদন্তকারীরা।
কীভাবে সই জাল কাণ্ডের সূত্রপাত, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশন কপি কোথায় তৈরি হয়েছিল, কারা তা জমা দিয়েছিলেন এবং তাতে কার কার সই ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সিআইডি অফিসাররা বিধানসভায় গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। স্পিকারের সচিবালয়ের নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য মিলিয়ে তদন্তের পরবর্তী দিশা ঠিক করতে চাইছেন তাঁরা। এদিকে সূত্রের দাবি, এই মামলায় যাঁদের নাম জড়িয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন করছে সিআইডি। অভিষেক থেকে শুরু করে দলের বিধায়কদের বয়ান মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, “বারবার তলব করে একই প্রশ্ন করার কোনও অর্থ নেই। এতে বিষয়টি আরও জটিল হচ্ছে। যাঁদের সই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা সই করেছেন কি না, সরাসরি তা জিজ্ঞাসা করলেই সমস্যা অনেক সহজে মিটে যেতে পারে।”




