রাজ্যের খবর

মতুয়াদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপি: মমতা বালা ঠাকুর

সেই সভা থেকেই চতুর্থ বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠনের আহ্বান জানালেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সভাপতি মমতা বালা ঠাকুর।

Truth Of Bengal: সনাতন গরাই, দুর্গাপুর: বিজেপির বিরুদ্ধে ফের তোপ দাগল তৃণমূল। বিজেপির মিথ্যাচার ও নাগরিকত্ব ইস্যুকে প্রতারণার অভিযোগ তুলে রবিবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের কাঁকসার গোপালপুরে জনসভা করল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সভা থেকেই চতুর্থ বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠনের আহ্বান জানালেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সভাপতি মমতা বালা ঠাকুর। এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, বর্ধমান–দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ, তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা।বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বালা ঠাকুর বলেন, বিজেপি মতুয়াদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। দেশভাগের সময় আইনে কোথাও লেখা ছিল না যে ওপার বাংলা থেকে এপারে আসা যাবে না।

তখন বলা হয়েছিল ধীরে ধীরে আসুন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত যে সরকার ছিল, তারা কোনও ক্ষতি করেনি। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে একের পর এক আইন এনে সাধারণ মানুষকে সমস্যার মুখে ফেলা হচ্ছে। সংবিধানে কোথাও লেখা নেই যে ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষদের বঞ্চিত করতে হবে। অথচ এই সরকার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।শান্তনু ঠাকুরকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, শান্তনু ঠাকুর টাকা নিয়ে সিএএ-র ফর্ম দিয়েছিলেন, মতুয়া কার্ড দিয়েছিলেন। আর এখন বলছেন, এক লক্ষ ভোট কেটে গেলেও তাঁর কিছু যায় আসে না। যাঁদের ভোটে তিনি সাংসদ ও মন্ত্রী হয়েছেন, আজ তাঁদেরই অবৈধ বলছেন। ওপার বাংলা থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের বুঝতে হবে কে তাঁদের পাশে রয়েছে। তাই আমাদের হাত শক্ত করতে হবে।

পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। পরে দেখা গেল সবই ভুয়ো প্রতিশ্রুতি। যাঁদের ভোটে শান্তনু ঠাকুর সাংসদ ও মন্ত্রী হলেন, আজ তিনিই বলছেন তিনি বৈধ, আর বাকিরা অবৈধ। এটাই বিজেপির আসল চেহারা।জনসভা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বিজেপি নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে মতুয়া সমাজকে বিভ্রান্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে মতুয়াদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে তৃণমূলের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়। সভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে মতুয়া ভোটব্যাংককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়তে চলেছে।