দেশ

ডেলিভারির সময় পেটে রয়ে যায় দেড় ফুট কাপড়, ডাক্তারদের গাফিলতিতে দেড় বছর ‘শাস্তি’ ভুগছেন মহিলা

এই ঘটনার জেরে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে অসহ্য যন্ত্রণায় ভোগার পর অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে থানায় মামলা দায়ের হয়।

Truth Of Bengal: চিকিৎসায় গাফিলতির এক ভয়াবহ নজির সামনে এল গ্রেটার নয়ডার তুঘলকপুরের বাকসন হাসপাতালে। অভিযোগ, ২০২৩ সালে এক নারীর সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় তাঁর পেটের ভিতরে প্রায় দেড় ফুট লম্বা একটি সার্জিক্যাল কাপড় রয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে অসহ্য যন্ত্রণায় ভোগার পর অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে থানায় মামলা দায়ের হয়।

অভিযোগকারী আনশুল বর্মা গ্রেটার নয়ডার ডেল্টা ওয়ান এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় গৃহকর্মী। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর বাকসন হাসপাতালে ডা. অঞ্জনা আগরওয়ালের তত্ত্বাবধানে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় অসতর্কতার কারণেই সার্জিক্যাল কাপড়টি তাঁর পেটের ভিতরে রয়ে যায়।

অস্ত্রোপচারের পর থেকেই আনশুলের পেটের যন্ত্রণা ক্রমশ বাড়তে থাকে। উপশমের আশায় তিনি মুজাফফরনগর ও গ্রেটার নয়ডার শারদা হাসপাতালসহ একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা করান। এমনকি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জিআইএমএস হাসপাতালে এমআরআই করালেও রিপোর্টে কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।

অবশেষে গত ২২ এপ্রিল গ্রেটার নয়ডার কৈলাশ হাসপাতালে পরীক্ষার সময় একটি অস্বাভাবিক ছায়া ধরা পড়ে। এরপর ফের অস্ত্রোপচার করা হলে চিকিৎসকরা তাঁর পেটের ভিতর থেকে প্রায় আধ মিটার লম্বা ওই সার্জিক্যাল কাপড় উদ্ধার করেন। এই সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন আনশুল।

এই ঘটনায় আনশুলের স্বামী গৌতম বুদ্ধ নগরের মুখ্য চিকিৎসা আধিকারিক (সিএমও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। তবে অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে ইচ্ছাকৃত দেরি করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া কাপড়টি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাঁদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই নারী।

চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণে আনশুলকে মোট দুটি বড় অস্ত্রোপচার সহ্য করতে হয়েছে। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় তাঁকে ৮ ইউনিট রক্ত দিতে হয়। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই ঘটনার প্রভাব ভবিষ্যতে তাঁর গর্ভধারণ ক্ষমতার উপরও পড়তে পারে।

আদালতের নির্দেশে গত ২৪ ডিসেম্বর গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর-এ ডা. অঞ্জনা আগরওয়াল, ডা. মণীশ গোয়েল ছাড়াও গৌতম বুদ্ধ নগরের সিএমও নরেন্দ্র কুমার এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের চন্দন সোনি ও আশা কিরণ চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নলেজ পার্ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সর্বেশ চন্দ্র জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলছে। অন্যদিকে সিএমও নরেন্দ্র কুমার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সময়মতো উদ্ধার হওয়া কাপড়টি তদন্তকারীদের হাতে না আসায় প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

Related Articles