দেশ

Eastern Railway: কুয়াশার জেরে পর পর দুর্ঘটনা রুখতে কড়া পদক্ষেপ রেলের! লোকো পাইলটদের জন্য জারি হল বিশেষ গাইডলাইন

রাত জেগে ফুটপ্লেট পরিদর্শন করছেন চিফ লোকো ইন্সপেক্টর এবং পদস্থ আধিকারিকেরা, যাতে লাইনের পরিস্থিতি এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনো খামতি না থাকে।

Truth of Bengal: শীতের মরসুমে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে রেললাইন, আর এই কম দৃশ্যমানতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে কোমর বেঁধে নামল পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশন। ট্রেন চলাচল নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে একগুচ্ছ কড়া নিরাপত্তা প্রোটোকল কার্যকর করা হয়েছে। মালদহ টাউন থেকে জঙ্গিপুর রোড, সাহেবগঞ্জ, ভাগলপুর হয়ে কিউল কিংবা দুমকা ও গোড্ডা পর্যন্ত বিস্তৃত কুয়াশাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রাত জেগে ফুটপ্লেট পরিদর্শন করছেন চিফ লোকো ইন্সপেক্টর এবং পদস্থ আধিকারিকেরা, যাতে লাইনের পরিস্থিতি এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনো খামতি না থাকে। এই নজরদারি পুরো শীতকাল জুড়েই চলবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে জোর দিয়ে মালদহ ডিভিশনের প্রতিটি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনে উন্নত মানের কুয়াশা নিরোধক নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা ফগ সেফটি ডিভাইস লাগানো হয়েছে। বর্তমানে এই ডিভিশনে মোট ৩৪৭টি এমন যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে। এই সরঞ্জামগুলি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা সরাসরি একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিত্তিক ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কুয়াশার মধ্যে দৃশ্যমানতা কমে গেলেও যাতে ট্রেনের গতিতে ভারসাম্য থাকে, তার জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গতি এবং সুরক্ষা—উভয়ই বজায় রাখা সম্ভব হবে।

পরিকাঠামোগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও মালদহ ডিভিশন বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন এলাকায় সিগন্যাল পোস্ট, হুইসেল বোর্ড এবং লেভেল ক্রসিং গেটগুলোতে উজ্জ্বল রঙের রিফ্লেক্টিভ স্ট্রিপ লাগানো হয়েছে যাতে চালকের নজরে তা সহজেই পড়ে। পাশাপাশি ট্রেনের পেছনের দিকের ল্যাম্পগুলোতে অত্যাধুনিক এলইডি ফ্ল্যাশার লাইট লাগানো হয়েছে। ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং কীম্যানদের ডিউটি জিপিএস-এর মাধ্যমে ট্র্যাক করা হচ্ছে এবং স্টেশন মাস্টারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দৃশ্যমানতা ১৮০ মিটারের নিচে নামলেই ডেটোনেটর ব্যবহার করতে। এই বিশেষ বাজিগুলো ফেটে শব্দ হওয়ার মাধ্যমে লোকো পাইলটরা আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে যাবেন।

রেল চালক বা লোকো পাইলটদের জন্য জারি করা হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা। কুয়াশার তীব্রতা বুঝে গতি নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি লেভেল ক্রসিংগুলোতে ঘন ঘন হুইসেল বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার খাতিরে এবং দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে কিছু ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নজর রাখছেন মালদহের ডিআরএম। রেলের দাবি, এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় কুয়াশার মাঝেও যাত্রীদের নিশ্চিন্তে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

Related Articles