শীতের মরশুমে ফুল চাষে ভাগ্যবদল! প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী ১৫টি কৃষক পরিবার
মোট প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, সূর্যমুখী, পেনজি, ডেনটাস সহ দেশি ও বিদেশি নানা প্রজাতির ফুল চাষ হচ্ছে।
Truth Of Bengal: বিকল্প চাষ হিসেবে শীতের মরশুমে ফুল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। শুধু পুরুষ নয়, তাঁদের সঙ্গে সমানতালে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষে যুক্ত হচ্ছেন গ্রামের মহিলারাও। চোখ জুড়ানো ফুলের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে গোটা গ্রাম। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি মহকুমার বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য বোড়াগাড়ি এলাকায় ঢুকলেই যেন চোখে পড়ে এক ‘ফুলের গ্রাম’। যতদূর চোখ যায়, বিঘার পর বিঘা জমিতে নানা রঙের, নানা প্রজাতির ফুলের চাষ। এখানকার কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প চাষ হিসেবে ফুল চাষকে বেছে নিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অন্যান্য শস্য চাষের তুলনায় ফুল চাষ তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক। সেই কারণেই গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই আজ ফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত। এই এলাকায় প্রায় ১৫টি কৃষক পরিবার ফুল চাষ করছেন। মোট প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, সূর্যমুখী, পেনজি, ডেনটাস সহ দেশি ও বিদেশি নানা প্রজাতির ফুল চাষ হচ্ছে। বাজারে এই ফুলের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় রফতানি হচ্ছে এই গ্রামের ফুল। খুচরো ও পাইকারি—দু’ভাবেই বিক্রি হচ্ছে ফুল। শিলিগুড়ি, ইসলামপুর-সহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সরাসরি গ্রামে এসে ফুল নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি, ফুলের চারা বিক্রিও করছেন কৃষকরা।
শুধু পুরুষরাই নয়, ফুল চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন গ্রামের মহিলারাও। একসময় অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটলেও ফুল চাষ করে বর্তমানে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠছেন অনেক কৃষক পরিবার। বিকেল হলেই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং ছবি তুলতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের ভিড় জমে এই এলাকায়। ফুল চাষি সাবিত্রী বিশ্বাস বলেন,প্রায় কুড়ি বছরের বেশি সময় ধরে আমরা ফুল চাষ করছি। এখানে শুধু শীতকাল নয়, সারা বছরই বিভিন্ন প্রজাতির ফুল পাওয়া যায়। তবে এ বছর বৃষ্টির কারণে চারা রোপণে কিছুটা দেরি হয়েছে, তাই এখনো সেভাবে ফুল ফোটেনি। ফুল ও চারা—দু’টিই আমরা বিক্রি করি। এখানকার ফুল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় যায়।ফুল চাষিরা আরও জানান, সরকারি সহযোগিতা এবং কৃষি দফতরের নিয়মিত পরামর্শ পেলে ফুল চাষের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব।






