দেশ

কাজের শেষে অফিসের ফোন ধরতে বাধ্য নন কর্মীরা, লোকসভায় পাশ হল নতুন বিল

সাধারণত এই ধরনের বিল সংসদে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আনা হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সরকারি জবাবের পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

Truth Of Bengal: ছুটিতে বাইরে ঘুরতে গেছেন, বা অফিসের দিনভর কাজ শেষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। এমন সময়েও বহু কর্মীকে অফিসের ফোন কল, মেসেজ বা ইমেলে সাড়া দিতে হয়। কর্মজীবনে এই অস্বস্তিকর বাস্তবের বিরুদ্ধে সুরক্ষাবিধি গড়ে তুলতেই পদক্ষেপ করলেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। শুক্রবার লোকসভায় তিনি পেশ করলেন ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল, ২০২৫’। এটি একটি বেসরকারি বিল। যা কর্মীদের ব্যক্তিগত সময়কে আইনি স্বীকৃতি দিতে চায়। সুপ্রিয়া সুলের প্রস্তাবিত বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অফিসের নির্ধারিত সময় বা ছুটির দিনে কোনও কর্মীকে অফিসের ফোন ধরা বা ইমেল চেক করতে বাধ্য করা যাবে না।

কাজের সময় শেষে কর্মীর সময়কে ‘ব্যক্তিগত সময়’ হিসেবে গণ্য করতে হবে।কোনও কর্মী ইচ্ছে করলে কাজ-সংক্রান্ত ফোন কল বাতিল করতে পারবেন, অফিসিয়াল ইমেলের উত্তর না দিলেও তিনি দায়বদ্ধ হবেন না।কেন্দ্রকে একটি কর্মচারী কল্যাণ কর্তৃপক্ষ গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যারা নিশ্চিত করবে যে কর্মীরা কাজের সময়ের বাইরে কোনও রকম বাধ্যতামূলক যোগাযোগের চাপে থাকবেন না।

এটি একটি প্রাইভেট মেম্বার’স বিল। অর্থাৎ কোনও মন্ত্রী নয়, বরং সাধারণ সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে বিলটি পেশ করেছেন। সাধারণত এই ধরনের বিল সংসদে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আনা হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সরকারি জবাবের পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। দেশে বেসরকারি বিল আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার নজির খুবই কম।আধুনিক কর্মসংস্কৃতিতে নির্দিষ্ট কাজের সময় থাকা সত্ত্বেও বহু কর্মীকেই দিনে ১২–১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়—অফিস শেষে বাড়িতেও অফিসের মেইল বা কলের চাপে থাকতে হয়। ছুটির দিনেও একই অবস্থা। কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য প্রায়ই ভেঙে পড়ে। সুপ্রিয়া সুলের বিল সেই চাপ কমানোর লক্ষ্যেই আনা হয়েছে।বিলটি পেশ হতেই সংসদে এবং কর্মজগতে আলোচনা শুরু হয়েছে—ভারতের কর্মীদের ব্যক্তিগত সময় কতটা সুরক্ষিত হওয়া উচিত, এবং এমন আইনের বাস্তব প্রয়োগ কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন আবার সামনে উঠে এসেছে।