লাইফস্টাইল

Hair Care Products: হেয়ার প্রোডাক্টে থাকা ফরমালডিহাইড বাড়াচ্ছে লিউকেমিয়ার ঝুঁকি

এই রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহিলাদের ওপর গবেষণা চালানো হয়।

Truth of Bengal: চুল পড়তে শুরু করলে, রুক্ষ ও শুষ্ক, মলিন হয়ে গেলে তা অনেকেরই মাথা ব্যথার কারণ হয়। সে জন্য চুলের যত্নে বিশেষ করে চুলের খুশকি, মলিন হয়ে যাওয়া, রুক্ষতা ও শুষ্ক ভাব দূর করতে যে সব হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট যেমন তেল, কন্ডিশনার, হিট প্রোটেক্টিং স্প্রে, শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়। এসবের মধ্যে অনেক সময় ফরমালডিহাইড নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে। এই রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহিলাদের ওপর গবেষণা চালানো হয়। তাঁরা ফরমালডিহাইড দেওয়া হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেছিলেন। ৫৮% হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টে ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ পাওয়া যায়। শ্যাম্পু, সাবান, লোশনে রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, ফরমালডিহাইড দেওয়া হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের জন্য nasopharyngeal, sinonasal, lymphohematopoietic ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। Environmental Science and Toxilogy Letters নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্র।

রাসায়নিক মিশ্রিত হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ক্যানসারের পাশাপাশি প্যারাবেন নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে বলে তা মেয়েদের শরীরে এন্ডোক্রাইন হরমোনের নিঃসরণে বিঘ্ন ঘটায়। বন্ধ্যত্বর সমস্যা ডেকে আনে। অনেক শ্যাম্পুতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বেঞ্জিন রাসায়নিক থাকে। চুল সোজা করার জন্য ব্যবহৃত হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টে ফরমালডিহাইড দেওয়া থাকে। তার জন্য মস্তিষ্কের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সালফেট দেওয়া হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে চুল আরও বেশি ফেটে যায়, রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। অ্যালার্জির সমস্যা দেখা যায়। এদিকে, চুলে ধূসর, রুপোলি রেখা দেখা গেলেই অনেকে চিন্তায় পড়ে যান। আজকাল বয়স না হলেও চুলে পাক ধরে। নামি-দামি হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে শুরু করে দেন। কিন্তু টোকিও ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চুলে ধূসর, রুপোলি রেখা দেখা দিলে তা আদতে চিন্তার বিষয় নয়। শুধু বয়স হওয়ার চিহ্ন নয় চুলে পাক ধরা। আদতে তা হল প্রাকৃতিক উপায় বিভিন্ন রকমের ত্বকের ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার চিহ্ন।

ডিএনএ’র ক্ষতি আর কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কীভাবে হেয়ার পিগমেন্ট কোষ সামলায়, তা নিয়ে গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে একটানা গবেষণা চালান। চুলে পাক ধরার পেছনে বয়স হওয়া বা জিনগত কারণের থেকেও তা ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতাকেই চিহ্নিত করে। চুলের রঙের কারণ হল মেলানোসাইট বা পিগমেন্ট কোষ। এই কোষের বৃদ্ধির জন্য দায়ী মেলানোসাইট স্টেম সেলের ওপর গবেষণায় জোর দেন টোকিও ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। হেয়ার ফলিকলসে পাওয়া যায় মেলানোসাইট স্টেম সেল। Nature Cell Biology নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্র।

Related Articles