ভোটার তালিকা থেকে বাদ দুর্গাপুরের ২৯১ জন! EC-কে কটাক্ষ প্রদীপ মজুমদারের
তাঁরা ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক ও জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর: এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। এবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা। অভিযোগ, ঘোর চক্রান্ত করে ২৯১ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে।
এই ঘটনায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার ভারতী এলাকায় ২০০২ সালের ২১২ নম্বর বুথের তালিকায় ৪১ জনের নাম নেই। মোট বাদ পড়েছেন ২৯১ জন ভোটার। এতে চরম আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক ও জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লক সভাপতি রাজীব ঘোষ ও অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। মন্ত্রী নিজে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে তাঁদের নাম না থাকার বিষয়টি যাচাই করেন। ভোটার সঞ্জয় সেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে আমি এখানেই ভোট দিচ্ছি। কিন্তু এবার দেখি আমাদের নামই নেই। অথচ কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া হার্ড কপিতে নাম স্পষ্টভাবে রয়েছে। কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক।
মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, ২০০২ সালেই নির্বাচন কমিশন কারচুপি করেছে। রাতের অন্ধকারে অনেকের নাম বাদ দিয়েছে। এটা একেবারে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোর চক্রান্ত। ইচ্ছাকৃতভাবে হাজার হাজার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছেন। আমরাও এলাকায় এলাকায় প্রতিবাদ করছি। এবার নির্বাচন কমিশনের কাছেই যাব এবং জবাব চাইব—কেন যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল।এসআইআর ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্যজুড়ে। এই অবস্থায় দুর্গাপুর পূর্বের ঘটনা আরও একবার রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।






