আন্তর্জাতিক

গুয়াতেমালা সীমান্তে ভয়াবহ পরিণতি, পাচারকারীদের হাতে খুন ভারতীয় যুবক

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ১৩ অক্টোবর এক এজেন্টের মাধ্যমে আমেরিকায় কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলেন যুবরাজ।

Truth Of Bengal: অবৈধ পথে আমেরিকায় প্রবেশ করতে গিয়ে মাদক পাচারকারীদের হাতে খুন হলেন হরিয়ানার এক যুবক। মৃতের নাম যুবরাজ। হরিয়ানার কৈথল জেলার পুন্দ্রি শহরের মোহনা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। দীর্ঘ এক বছর নিখোঁজ থাকার পর সম্প্রতি তাঁর পরিবারের হাতে আসে মৃত্যুর শংসাপত্র ও মরদেহের ছবি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ১৩ অক্টোবর এক এজেন্টের মাধ্যমে আমেরিকায় কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলেন যুবরাজ। ৪১ লক্ষ টাকায় ওই এজেন্টের সঙ্গে চুক্তি হয়—এর মধ্যে ২৫ লক্ষ টাকা আগাম দেওয়া হয়েছিল, বাকিটা যুবরাজ নিরাপদে আমেরিকায় পৌঁছালে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গুয়াতেমালা হয়ে আমেরিকায় প্রবেশের আগেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।

কিছু মাস পরে পরিবারের কাছে আসে এক ভয়াবহ ভিডিয়ো। সেখানে দেখা যায়, যুবরাজ এবং পঞ্জাবের এক যুবককে হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় মারধর করছে কয়েক জন সশস্ত্র ব্যক্তি। বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁদের থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়—প্রথমে ১৭ লক্ষ টাকার দাবি তোলে অপহরণকারীরা। পরে আরও একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, কাঁদতে কাঁদতে যুবরাজ তাঁর বাবাকে অনুরোধ করছেন টাকা পাঠাতে, না হলে তাঁকে মেরে ফেলা হবে।এরপর থেকেই যুবরাজের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে সাহায্য চান। বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নেওয়ার পর অবশেষে যোগাযোগ হয় নেপালের এক পাচারকারী পলের সঙ্গে। সে জানায়, যুবরাজকে খুন করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে টাকা দাবি করে ওই পাচারকারী। যুবরাজের পরিবার জানায়, ১,৫০০ মার্কিন ডলার পাঠানোর পর পাচারকারী যুবরাজের মরদেহের ছবি এবং মৃত্যুর শংসাপত্র পাঠায়।

গত সপ্তাহেই সেই প্রমাণ হাতে পেয়েছে যুবরাজের পরিবার। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানব পাচারচক্র এবং স্থানীয় এজেন্টরাই জড়িত। কৈথল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবরাজের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।পরিবারের দাবি, ‘আমরা আমাদের ছেলেকে কাজের আশায় বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু পাচারকারীদের চক্রান্তে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’দেশজুড়ে বেড়ে চলা অবৈধ বিদেশযাত্রা ও মানব পাচারচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারাও।