Tipu Sultan Palace: ঐতিহাসিক টিপু সুলতানের প্রাসাদে ভাঙচুর! দেওয়ালে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম খোদাই
প্রাসাদটি পর্যটন দফতর, উদ্যান দফতর এবং জেলা পুলিশের যৌথ তত্ত্বাবধানে থাকা সত্ত্বেও, ঘটনার পরও কয়েকদিন কেউ বিষয়টি টের পাননি।
Truth of Bengal: কর্নাটকের চিক্কবল্লাপুর জেলার নন্দিগিরিধামায় অবস্থিত ঐতিহাসিক টিপু সুলতানের প্রাসাদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রাসাদের দেওয়ালে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম খোদাই করে রেখেছে দুষ্কৃতীরা।প্রাসাদটি পর্যটন দফতর, উদ্যান দফতর এবং জেলা পুলিশের যৌথ তত্ত্বাবধানে থাকা সত্ত্বেও, ঘটনার পরও কয়েকদিন কেউ বিষয়টি টের পাননি। পরে কয়েকজন পর্যটক প্রাসাদের দেওয়ালে খোদাই করা লেখার ছবি তুলে প্রশাসনের নজরে আনেন।সূত্রের খবর, ঐতিহ্যবাহী এই স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও, বর্তমানে কোনও ক্যামেরাই কার্যকর অবস্থায় নেই। ফলে নজরদারির ঘাটতি নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন (Tipu Sultan Palace)।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র এক ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতিই নয়, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত। তাঁরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে পরিদর্শন ও তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখ্য, টিপু সুলতানের প্রাসাদটি প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ দফতর-এর সুরক্ষিত স্থাপনার অন্তর্গত।টিপু সুলতান, যাঁর জন্ম আজ থেকে প্রায় ২৭১ বছর আগে মহীশূরের সুলতান হায়দার আলীর ঘরে, ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছিলেন। তাঁর শাসনকাল, সাহসিকতা ও বীরত্ব আজও ইতিহাসে অমর। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়।রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিভাজনের কারণে, একাংশের বিজেপি নেতা ও ডানপন্থী ইতিহাসবিদরা তাঁকে হিন্দু বিরোধী মুসলমান শাসক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন (Tipu Sultan Palace)।
তাঁদের দাবি, টিপুর শাসনে কোডাগু ও মালাবার অঞ্চলে হিন্দু ও খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়ন চলেছিল।অন্যদিকে, ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, টিপু ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামী এক জাতীয়তাবাদী নেতা, যিনি ভারতের স্বাধীনতার প্রথম দিকের প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্নাটক সফরের সময়ও টিপু সুলতানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন টিপুর নামে থাকা একটি রাস্তার নাম বদলের দাবি তোলে।এই প্রেক্ষাপটে, টিপু সুলতানের ঐতিহাসিক প্রাসাদে ভাঙচুরের ঘটনাকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা (Tipu Sultan Palace)।






