দেশ

ইতিহাস গড়ল ভারত, চাঁদের বায়ুমণ্ডলে সূর্যের প্রভাব সরাসরি রেকর্ড করল চন্দ্রযান-২

২০১৯ সালের ২২ জুলাই, শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় চন্দ্রযান-২।

Truth Of Bengal: চাঁদের রহস্য উন্মোচনের পথে আরও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল ভারত। ইসরোর চন্দ্রযান-২ এবার প্রথমবারের মতো সূর্যের শক্তিশালী বিস্ফোরণ  কোরোনাল মাস ইজেকশন—এর সরাসরি প্রভাব চাঁদের উপর পর্যবেক্ষণ করেছে। ইসরো এই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সাফল্যের কথা জানায়।ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চন্দ্রযান-২ অরবিটারে থাকা বিশেষ যন্ত্র  চানস-২  সূর্যের বিকিরণের প্রভাব সরাসরি রেকর্ড করেছে। এর মাধ্যমে চাঁদের পাতলা বায়ুমণ্ডল বা লুনার এক্সোস্ফিয়ার সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ১০ মে সূর্যে ঘটে শক্তিশালী সৌর বিস্ফোরণ। সেই বিকিরণ সরাসরি আঘাত হানে চাঁদের দিকে। তখন চন্দ্রযান-২-এর চানস-২ পেলোড চাঁদের বায়ুমণ্ডলে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করে— দেখা যায়, চাঁদের সূর্যালোকিত অংশে বায়ুচাপ বেড়ে গিয়েছে এবং আশপাশের নিরপেক্ষ গ্যাসের ঘনত্ব একাধিক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।ইসরোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগে শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক অনুমানের ভিত্তিতে এই প্রভাবের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রথমবারের মতো চন্দ্রযান-২ বাস্তবে সূর্যের প্রভাব রেকর্ড করেছে।

২০১৯ সালের ২২ জুলাই, শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় চন্দ্রযান-২। মিশনের লক্ষ্য ছিল চাঁদের কক্ষপথে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করা এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে ল্যান্ডার নামানো। সেই বছরের ২০ অগস্ট চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে প্রবেশ করে মহাকাশযানটি। যদিও ৭ সেপ্টেম্বর ‘বিক্রম’ ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অরবিটার এখনও সম্পূর্ণ সচল এবং চাঁদের চারপাশে ঘুরে তথ্য পাঠাচ্ছে।সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে প্রচণ্ড পরিমাণ গরম গ্যাস, মূলত হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন আয়ন, মহাকাশে ছিটকে বেরিয়ে আসে— একেই বলা হয় কোরোনাল মাস ইজেকশন। এটি সূর্যের এক ধরনের শক্তিশালী বিস্ফোরণ, যা মহাকাশের আবহাওয়া ও গ্রহগুলির বায়ুমণ্ডলে বড় প্রভাব ফেলে।চাঁদের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল ও চৌম্বকক্ষেত্র প্রায় না থাকায় সূর্যের এই বিকিরণ সরাসরি তার পৃষ্ঠে আঘাত হানে।

ফলে চাঁদের এক্সোস্ফিয়ারে (বহির্মণ্ডলে) পরিবর্তন ঘটে— যেটি এবার প্রথমবার সরাসরি পর্যবেক্ষণ করল ভারতের চন্দ্রযান।ইসরোর বিজ্ঞানীদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ শুধু চাঁদের পরিবেশ ও সূর্য-চাঁদের সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যতে চাঁদে মানব মিশন ও স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সূর্যের বিকিরণ কীভাবে চাঁদের পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলকে প্রভাবিত করে, তা বোঝা গেলে মহাকাশচারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উন্নত করা সম্ভব হবে।চাঁদের রহস্যভেদে ভারতের এই নতুন সাফল্য প্রমাণ করল  চন্দ্রযান-২ এখনও শুধু সচল নয়, বরং মহাকাশবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।