László Krasznahorkai: অবশেষে স্বীকৃতি! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাহিত্যে নোবেল পাচ্ছেন লাজলো ক্রাজনাহোরকাই
১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির গিউলাতে জন্মগ্রহণকারী ক্রাসনাহোরকাই ১৯৮৫ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘স্যাটানটাঙ্গো’ (Satantango)-এর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন।
Truth of Bengal: বিশ্ব সাহিত্যের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি, নোবেল পুরস্কার ২০২৫, পেলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই (László Krasznahorkai)। সুইডিশ একাডেমি এই ৭১ বছর বয়সী লেখকের “আশঙ্কাজনক সন্ত্রাসের মাঝেও শিল্পের ক্ষমতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে এমন আকর্ষণীয় ও দূরদর্শী রচনাসমগ্রের” জন্য তাঁকে সম্মানিত করার ঘোষণা করেছে। নোবেল কমিটি ক্রাসনাহোরকাইয়ের কাজকে এমন এক সাহিত্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা তাঁর লেখার বিষাদময়তা এবং ডিস্টোপিয়ান (dystopian) চিত্রায়ণের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে বারবার তুলে ধরে। তিনি তাঁর দীর্ঘ, পেঁচানো বাক্য এবং গভীর মননশীলতার জন্য পরিচিত, যার কারণে সমালোচকরা তাঁকে গোগোল, মেলভিল এবং কাফকার মতো সাহিত্যিকের সঙ্গে তুলনা করেন। সুসান সংটাগ তাঁকে “সমসাময়িক হাঙ্গেরীয় অ্যাপোক্যালিপসের মাস্টার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং ডব্লিউ জি সেবাল্ড তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সার্বজনীনতার প্রশংসা করেছেন।
১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির গিউলাতে জন্মগ্রহণকারী ক্রাসনাহোরকাই ১৯৮৫ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘স্যাটানটাঙ্গো’ (Satantango)-এর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। এটি ছিল একটি ভেঙে পড়া গ্রামীণ সমাজের অন্ধকার এবং সম্মোহনী চিত্রায়ণ। উপন্যাসটি প্রায় তিন দশক পর, ২০১৩ সালে, ইংরেজি ভাষায় ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার জেতে। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাসগুলির মধ্যে রয়েছে ‘দ্য মেলানকলি অফ রেসিস্ট্যান্স’ (The Melancholy of Resistance)। তাঁর বেশ কিছু কাজ, যার মধ্যে ‘স্যাটানটাঙ্গো’ অন্যতম, পরিচালক বেলা টার-এর মাধ্যমে ফিচার ফিল্মে রূপান্তরিত হয়েছে। বেলা টারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সৃজনশীল অংশীদারিত্ব রয়েছে। সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার আগে ক্রাসনাহোরকাই ২০১৯ সালে অনূদিত সাহিত্যের জন্য ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার-সহ অসংখ্য সম্মান অর্জন করেছেন।
ভাষা ও ভ্রমণের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য জীবন বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ১৯৮৭ সালে তিনি প্রথম কমিউনিস্ট হাঙ্গেরি ছেড়ে পশ্চিম বার্লিনে এক বছর অতিবাহিত করেন। পরে তিনি পূর্ব এশিয়া—বিশেষত মঙ্গোলিয়া ও চীন—থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ‘দ্য প্রিজনার অফ উরগা’ এবং ‘ডিস্ট্রাকশন অ্যান্ড সরো বিনীত দ্য হেভেনস’-এর মতো কাজ রচনা করেন। ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’ লেখার সময় তিনি ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ভ্রমণ করেন এবং কিংবদন্তি বিট কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে কিছুদিন বসবাস করেছিলেন। গিন্সবার্গের সমর্থন তাঁর উপন্যাসটি সম্পূর্ণ করার জন্য অপরিহার্য ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং, যিনি তাঁর ‘দ্য ভেজিটেবুলারিয়ান’ উপন্যাসের জন্য সুপরিচিত। লাসলো ক্রাসনাহোরকাই আনুষ্ঠানিকভাবে ডিসেম্বরে স্টকহোমে এক অনুষ্ঠানে নোবেল পদক ও ডিপ্লোমা গ্রহণ করবেন।






