কলকাতা

‘বেঙ্গল ওয়ান্ট অ্যাকশন’- রাজ্যপালকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করালেন শুভেন্দু

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে, যেখানে সাংসদরাও নিরাপদ নন।

Truth Of Bengal: বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মূর উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের উপর চাপ বাড়াতে কৌশলী পদক্ষেপ নিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বেঙ্গল ওয়ান্ট অ্যাকশন!”— এই রাজ্যে এখনই সময় সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়ার।

শুভেন্দুর বক্তব্য স্পষ্ট, এখন আর শুধু বিবৃতি দিয়ে চলবে না, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে, যেখানে সাংসদরাও নিরাপদ নন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালকে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, রাজ্যপাল বোসের সঙ্গে শুভেন্দুর সম্পর্ক বরাবরই ঠান্ডা-গরমে ভরা। প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সময়ে রাজভবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, আনন্দ বোস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দূরত্ব তৈরি করেন শুভেন্দু। বিশেষ করে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের ঘনিষ্ঠতা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলা শেখার অনুষ্ঠান কিংবা কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে যোগদান, এসব বিষয়কে ভালো চোখে দেখেননি তিনি।

তবে পরিস্থিতি ক্রমেই বদলাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে গোষ্ঠী সংঘর্ষে নিহতদের প্রসঙ্গে রাজভবনে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন শুভেন্দু। এবার খগেন মুর্মূর ওপর হামলার ঘটনায় আরও একবার রাজ্যপালের প্রতি কড়া বার্তা দেন তিনি।

শুভেন্দুর মতে, রাজ্যপাল আগেই বলেছিলেন যে, এর পর কোনও “অপ্রীতিকর” ঘটনা ঘটলে তিনি সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমরা এখন তাঁর সদর্থক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছি।”

বিরোধী দলনেতার আরও বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বিষয়টি রাজ্যের অধীনে, কেন্দ্রের করার কিছু নেই। ফলে রাজ্যের মধ্যেই রাজ্যপালের উচিত সঠিক ভূমিকা নেওয়া। এক বিজেপি বিধায়কের কথায়, “বিরোধী দলনেতা যেখানেই অত্যাচারিত মানুষদের খবর পান, সেখানেই তিনি ছুটে যান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে। এবার রাজ্যপালের পালা।”

রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট দিয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকেও এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আপাতত রাজ্যপালের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে বিরোধীরা।

Related Articles