কলকাতারাজ্যের খবর

Weather Update: লক্ষ্মী পুজোয় দুর্যোগ কাটতে চলেছে বঙ্গে? কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস?

ভারী বৃষ্টির দাপট সোমবার অনেকটাই কমেছে; তবে দুর্যোগ পুরোপুরি কাটেনি।

Truth of Bengal: গত কয়েক দিনের লাগাতার প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ অবশেষে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চলেছে। সোমবার শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বানভাসি এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গে মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির দাপটে একাধিক বাঁধ ভেঙে গিয়েছে এবং শিলিগুড়ি ও গ্যাংটক সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। এই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের পর অবশেষে আশার কথা শোনাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। ভারী বৃষ্টির দাপট সোমবার অনেকটাই কমেছে; তবে দুর্যোগ পুরোপুরি কাটেনি। রবিবার বিকেলে নিম্নচাপটি শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়ে বর্তমানে বিহারের ওপর অবস্থান করছে। যদিও এর ফলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম হওয়ায় বৃষ্টির তীব্রতা কমেছে, তবু ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এখনও জারি থাকবে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার, উত্তরবঙ্গের একমাত্র আলিপুরদুয়ার জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। তবে দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। তবে মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হলেও, বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের কিছু জেলার আকাশে রোদের দেখা মিলতে পারে। মঙ্গলবারের পর থেকে সিকিম এবং ভুটান পাহাড়েও বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা কমবে, যা উঁচু এলাকা থেকে হড়পা বান এবং বাঁধ থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে সোমবার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। আবহাওয়া দফতরের তথ্যমতে, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় সোমবার আকাশ মেঘলা থাকবে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কয়েক পশলা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই সময় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো বাতাসও বইতে পারে। এছাড়া, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমবে। বৃষ্টি কমায় DVC (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Related Articles