Atomic Bombing: সভ্যতার কালো অধ্যায়
আজ থেকে ৭২/৭৩ বছর আগের কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের পথে। অকস্মাৎ জাপানের হিরোশিমা শহরের বুকে ফুটে উঠে এক ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় রূপ।
নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস: অনেকেই বলেন পাশ্চাত্য সভ্যতা অনেক উন্নত। আবার কেউ কেউ বলেন আংশিক সত্য। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ,সৌভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতা যদি সভ্যতার প্রধান অঙ্গ হয়। তা হলে কোন যুক্তিতে পাশ্চাত্য সভ্যতা এত উন্নত হতে পারে জানি না। যাদের তীব্র আগ্রাসী মনোভবে বারবার বিশ্বময় অশান্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে (Atomic Bombing)।
আজ থেকে ৭২/৭৩ বছর আগের কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের পথে। অকস্মাৎ জাপানের হিরোশিমা শহরের বুকে ফুটে উঠে এক ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় রূপ। বিস্ফোরিত হয় গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র পরমাণুবোমা। কয়েক সেকেন্ডেই প্রাণ হারায় আশি-পঁচাশি হাজার মানুষ। দিনটি ছিল ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৬ আগস্ট। সকাল ০৭-৪৫ মিনিটে জাপানের রেডার সিস্টেম থেকে হিরোশিমা শহরের বুকে অ্যালার্ম বেজে উঠে। আল্যার্মের শব্দের গুরুত্ব শহরের সাধারণ মানুষ বোঝেনি। সকাল আটটা বাজতেই কর্মব্যস্ত কর্মীরা আপন আপন কর্মস্থলে যেতে শুরু করে। স্কুল পড়ুয়াদের সবেমাত্র ক্লাসের প্রথম প্রেড আরম্ভ হয়েছে। ঠিক তখনই হিরোশিমা শহরের আকাশে বি-২৯ বোমারু বিমানটি চক্র মারতে শুরু করে। ঘড়ির কাঁটায় ০৮-১৫ মিনিট বাজতেই পথচলতি মানুষের চোখে পড়ে আকাশের উড়ন্ত বিমানটি হতে কী একটি জিনিস নীচের দিকে নেমে আসছে। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিমেষে গোটা শহর আগুনের গোলায় ঝলসে ওঠে। কয়েক সেকেন্ডেই প্রায় আশি-পঁচাশি হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। কংক্রিটের ঢালাই বাদে সমস্ত বড় বড় বিল্ডিং, গাছপালা, পশু-পাখি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই সর্বপ্রথম মর্মান্তিক বড় ঘটনা (Atomic Bombing)।
আরও পড়ুনঃ Abhishek Banerjee: “সম্মানিত” লোকসভার দলনেতা হয়ে প্রতিক্রিয়া অভিষেকের
সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে। যে চিন আজ আমারিকার বড় শত্রু, জাপানকে সবক শিখিয়ে সেদিন রক্ষা করেছিল আমেরিকা। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তাতে একদিকে জাপান, জার্মান আর ইটালি অপরপক্ষে ফ্রান্স, ব্রিটেন আর সোভিয়েত ইউনিয়ন। আমেরিকা সরাসরি কোনও পক্ষ অবলম্বন না করলেও বন্ধুরাষ্ট্র ইংল্যান্ডকে যুদ্ধের সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে। জাপান বুঝতে পেরে বারবার আমেরিকাকে কটূক্তি করে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে জাপান, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব নিয়ে ইস্ট–ইন্দোনেশিয়ানদের নিয়ে গ্রেট এশিয়া গঠনের পরিকল্পনা করে। ব্রিটেনের বাস্তবক্ষেত্র অন্য দেশকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার নির্যাস ছিনিয়ে নেওয়া। আকর আর কয়লার জন্য একধাপ এগিয়ে চিনের মাঞ্চুরিয়ার দখল নেয়। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে মায়ানমার, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাউস, ভিয়েতনাম, নর্থ ও দক্ষিণ কোরিয়া জাপানের কলোনির মধ্যে আসে। আর সমস্ত দেশের রিসার্চ এক্সট্রাকট করে নিয়ে তাদের দেশে নিয়ে যায়। এত সত্ত্বেও জাপানের আসল ঘাটতি মিটত না। তেলের খুব অভাব। সরকারি গাড়ি ছাড়া প্রাইভেট গাড়ি রাস্তায় চলে না। সাধারণ মানুষকে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। তেলের জন্য আমেরিকার উপর নির্ভর করত। সর্বাপেক্ষা মূল্যবান ছিল জাপানের ইকনমি আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেস। অভাব তখন ন্যাচারাল ইকনমি। সমাধানে নির্ভর করতে হতো আমেরিকার উপর। এত জানা সত্ত্বেও আমেরিকা, জাপানের বিস্তৃতিকরণের বাড়াবাড়িতে নাক গলাত না। মাঝে মাঝে নিন্দা করে চুপ থাকে। হঠাৎ করে আমেরিকার বড় শত্রু জার্মানির সঙ্গে জাপান হাত মেলায় (Atomic Bombing)।
সাম্রাজ্য বিস্তারে ভিয়েতনাম, লাউসের দিকে নজর দেয়। দেশগুলি তখন ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সকে পরাস্ত করে দেশগুলি আয়ত্বে আনে। ফ্রান্স তখন আমেরিকার মিত্রদেশ। শত্রুতা শুরু এখান থেকে। আমেরিকা চিন্তিত, জাপানকে এভাবে বাড়তে দিলে ভবিষ্যতে আমাদেরও পস্তাতে হবে। সুচতুর ও বিচক্ষণ আমেরিকা, জাপানকে শুধারানোর জন্য ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাস থেকে তেল সরবরাহ থেকে বিরত থাকে। ফলে তেলের অভাবে জাপানের ইন্ডাস্ট্রিগুলি একের পর এক মুখ থুবড়ে পড়ে। তেলের জন্য অনুরোধ জানালে আমেরিকা জাপানের উপর শর্ত আরোপ করে। প্রথমত চিনের উপর থেকে সমস্ত রকমের নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত অবিলম্বে হিটলারের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানতে হবে। জাপান মেনে নিতে পারেনি। প্রথমত রাষ্ট্রের সম্মান জড়িত, দ্বিতীয়ত বহুদিনের স্বপ্ন, হিটলারের মতো এশিয়ার সমস্ত দেশগুলির নিয়ন্ত্রক হওয়ার বাসনা হৃদয়ে পুঞ্জীভূত রেখেছেন রাজা হিরোহিটো। অন্তরে আমেরকার আরোপিত শর্ত বাতিল করে ছক কষে অতি গোপনে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার তেল ও অন্যান্য রিসার্চের উপর দৃষ্টি দেয়। দেশ দুটি আয়ত্বে আসলে তেলের অভাব মিটবে। কিন্তু সমস্যা অনেক। ইন্দনেশিয়া তখন নেদারল্যান্ডের কলোনি, মালয়েশিয়া ব্রিটেনের। মালয়েশিয়া এবং ব্রিটেন দুটো দেশই তখন আমেরিকার বন্ধুদেশ। আক্রমণ করলে আমেরিকা ছেড়ে কথা বলবে না। দৃষ্টি পড়ে ফিলিপিনদের উপর। ফিলিপিনও আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। সব পথেই শনিগ্রহ সেই আমেরিকা (Atomic Bombing)।
নতুন ভাবনা মাথায় আসে। প্রথম আঘাতটাই হানবে আমেরিকার উপর। আমেরিকা পর্যুদস্ত হলে অন্যদেশগুলি সহজেই আয়ত্বে আসবে। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমেরিকা বেশ শক্তিধর দেশ, যা জাপানের অজানা নয়। অতি সন্তর্পণে আমেরিকার ফাইটার জেড বিমান, মিলিটারি বেস ট্যাংকার এরিয়ার সমস্তটাই উড়িয়ে দিলে আমেরিকার মেরুদণ্ড দুমড়ে পড়বে। না হলেও কিছুটা অর্থনৈতিক অসংগতি দেখা দেবে। এই অলীক কল্পনার উপর ভর করে ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর সকাল ৬টা বাজতেই হাওয়ায় পার্লহারবারে অতর্কিতে চরম আঘাত হানে। পার্লহারবার ছোট একটা দ্বীপ। এখান থেকে জাপানের দূরত্ব তিন হাজার কিলোমিটার। এখানে বসে তারা এশিয়ার সমস্ত দেশের উপর নজর রাখে। তখনকার টেকনোলজি এত উন্নত না হওয়ায় আমেরিকার ধারণা ছিল না, জাপানের যুদ্ধবিমান এতদূর উড়ে এসে আঘাত হেনে নির্বিঘ্নে ফিরে যাবে। পরিকল্পনা মতো তারা ৬টা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে ৩৪০টি ফাইটার বোম্বার আর করপেটা বোম্বার নিয়ে চারদিন ধরে ট্রায়াল দিয়ে ৩৭০ কিলোমিটারের কাছাকাছি স্থানে এসে আক্রমণ চালাতে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এটি ছিল চরমতম ও চমকপ্রদ আক্রমণ। সময়টা ছিল দিনের শুরুর প্রথম মুহূর্ত। সেনার অনেকেই তখনও ঘুমোচ্ছে। জাগ্রত সেনার একটা অংশ ব্রেকফাস্টে ব্যস্ত। ঠিক সেই মুহূর্তে জাপানের বোমারু বিমান অকস্মাৎ অনর্গল বোমা বর্ষণ করতে থাকে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পনেরো মিনিটের বোমা বর্ষণে আমেরিকার ব্যটলশিপ এয়ারক্র্যাফট প্লেনের সমস্তটাই বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রাণ হারায় ২৪০০ সেনা। নীচে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো অগ্নিশিখার ঝলকানি আর ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেঁকে যায়। চরম আঘাত হেনে এয়ারক্র্যাফটগুলি নিরাপদে ফিরে যায়। আমেরিকা এতদিন নিরপেক্ষ থাকার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি শামিল হয়ে চারমাস প্রস্তুতি নিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে জাপানের টোকিও শহর আক্রমণ করে। এটাই তার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম সোপান। তারপর আর থেমে থাকেনি। সুদীর্ঘ লড়াই করে জাপানের একটার পর একটা দ্বীপ দখলে নেয়। ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে জাপানের বন্ধুদেশ ইটালি আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করে (Atomic Bombing)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1ADtx3ZZeU/
৩০ এপ্রিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ জার্মানের প্রেসিডেন্ট হিটলার আত্মহত্যা করলে জার্মানও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। জাপান বিন্দুমাত্র ব্যাথিত না হয়ে লড়তে থাকে। আমেরিকা পুরোদমে লড়াই চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে জাপানের মাটিতে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে জাপানকে পর্যুদস্ত করতে ২২ জুন ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে জাপানের কাছাকাছি ওকিনাওয়া দ্বীপ দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। উদ্দেশ্য, ওকিনাওয়া দখলে এলে ওখানে বসে লক্ষ্যভেদ করবে। কিন্তু তা সহজ হয়নি। দেহে একবিন্দু রক্ত থাকতে তারা এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তারা উন্মাদের মতো লড়াই চালায়। কামিকাজা প্লেন সর্বক্ষণ আঘাত হানতে থাকে। রাজা হিরোহিটো মগজে ঢুকিয়েছেন যুদ্ধে হারলে আমেরিকা বাহিনী খুঁজে বের করে সবাইকে হত্যা করবে। ছোট ছেলেরাও বোমা হাতে ট্যাঙ্কারের সামনে শুয়ে পড়ে। পাইলটরা রক্ষক হয়ে আমেরকান ব্যটলশিপে বোমা নিয়ে সুইসাইড করে। শেষমেশ আমেরিকা যুদ্ধে জয়ী হলেও ১২ হাজার আমেরিকান সেনা প্রাণ হারায়, ৫০ হাজারেরও বেশি সেনা হয় আহত। অপরপক্ষে ১ এক লক্ষ জাপানি সেনার মৃত্যু হয়। সব চেয়ে মর্মান্তিক বিষয় ওকিনাওয়া দ্বীপের ২৫ শতাংশ শতাংশ সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটে। পরিসংখ্যান রিপোর্ট হাতে পেয়ে আর জাপানিদের দাপট দেখে শঙ্কিত আমেরিকা। তখনও জাপানের আসল মাটিতে পা পড়েনি। আমেরিকাপ্রধান চিন্তিত এভাবে চললে এখনও বছর কয়েক যুদ্ধ চলবে। হয়তো এক লক্ষ সেনার মৃত্যু ঘটবে। জাপানকে আয়ত্বে নিতে নতুন কোনও পন্থা খুঁজতে হবে। ঠিক তখনই খবর আসে আমেরিকার টপ সিক্রেট ম্যানহাটন প্রজেক্ট থেকে। আমেরিকার বিজ্ঞানীরা সেখানে পরমাণুবোমা বানাচ্ছিলেন। সবুজ সংকেত আসে সেখান থেকে। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুলাই বিশ্বের প্রথম পরমাণুবোমা নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মনে আনন্দ আর ধরে না। শেষ বারের মতো জাপানকে সতর্ক বার্তা পাঠায়। নিঃশর্তে জাপান যেন পরাজয় ও বশ্যতা স্বীকার করে। নইলে ভাগ্যে ভয়ঙ্কর কিছু অপেক্ষা করছে। জাপান সরকার, আমেরিকার হাতে পরমাণুবোমার কথা না জানায় হয়তো সতর্ক বার্তা অমান্য করে যুদ্ধ চালাতে তৎপর। উপলব্ধি করেছে আমেরিকা জাপানকে নিরস্ত করতে পরমাণুবোমার শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নাই।
১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৬ আগস্ট সকাল আটটা। আমেরিকার বি-২৯ বোয়িং ‘লিটল বয়’ নামের একটি পরমাণুবোমা নিয়ে জাপানের হিরোশিমা শহরের আকাশে উড়তে থাকে। আকাশে কয়েক চক্কর মেরে ০৮-১৫ মিনিটে বোমাটি ফেলে দেয়। নীচে পথচলতি মানুষের কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলোর ঝলকে দৃষ্টিশক্তি হারায়। কেউ বলে সূর্য মাটিতে খসে পড়েছে। আচমকা ভয়ঙ্কর শব্দে অনেকের কানে তালা লাগে, পর্দা ফেটে যায়। ৪০ হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, মানুষ, গাছপালা, পশুপাখি নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। মানুষের গায়ের চামড়া ফলের খোসার মটো খসে পড়ে। তাতেও জাপানরাজ নিরাশ নন। দিন তিনেক অপেক্ষার পর ৯ আগস্ট নাগাসিকা শহরের আকাশ থেকে ফ্যাটম্যান নামক আরও একটা পরমাণুবোমা আমেরিকার বোয়িং বিমান থেকে নিক্ষেপ করলে বিস্ফোরণে প্রায় দু লক্ষ মানুষ নিমেষে প্রাণ হারান। গোটা নাগাসিকা শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর কোন উপায়ন্তর না থাকায় জাপান আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে (Atomic Bombing)।






