সম্পাদকীয়

Suniti Choudhury: অগ্নিকন্যা সুনীতি চৌধুরী

তখন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আরও দ্রুত গতি আনতে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর নামে দুটি সংগঠন গড়ে ওঠে।

 নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস: সারা বিশ্বের ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যাবে, প্রতিটি দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে পুরুষদের সহযোগিতা করে নারী সংবর্ধিত হয়েছেন, হচ্ছেন। কিন্তু এদেশে প্রশাসনের নিরাপত্তাহীনতায় নারীরা আজ বিপন্ন। পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষের মতো নারীর আত্মত্যাগের মহিমা নেহাৎ কম। এমনই এক বাঙালি কিশোরীর স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস আজ আমরা জানব। (Suniti Choudhury)

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘নারী’ কবিতায় লিখে গেছেন,

‘বিশ্বে যা কিছু মহানসৃষ্টি চির-কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’

কবিতাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা বিশেষ প্রয়োজন। সমগ্র পৃথিবীর প্রতিটি দেশের যাবতীয় উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তব রূপায়ণে নারীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় উপমহাদেশে গণআন্দোলনের এক উজ্জ্বলতম তারকা সুনীতি চৌধুরী (Suniti Choudhury)। জন্মেছিলেন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ মে, বাংলা ১ জ্যৈষ্ঠ। পিতা ছিলেন অধুনা বাংলাদেশের কুমিল্লার সরকারি কর্মী উমাচরণ চৌধুরী। মাতা সুরসুন্দরী দেবী। তাঁদের আদি বাসস্থান ছিল ত্রিপুরা জেলার নবীনগর থানার ইব্রাহিমপুর। ১২ বছর বয়সেই সুনীতির মনে ইংরেজ বিদ্বেষ দানা বাঁধছিল। তাঁর দুই দাদা কলেজ জীবনেই বিপ্লবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কালিকচ্ছের উল্লাসকর দত্তের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর জীবনের অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতনের মর্মন্তুদ ইতিহাস তাঁর মনে পীড়াদায়ক হয়ে উঠে।  আরও অনেক বিপ্লবীর করুণ কাহিনি শুনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জন্মায়। তখন তিনি কুমিল্লার ফয়জুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের পড়ুয়া। তাঁর দুই সহপাঠী শান্তি ঘোষ ও প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম। তখন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আরও দ্রুত গতি আনতে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর নামে দুটি সংগঠন গড়ে ওঠে।

সংগঠনের কার্যধারা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঢেউ কুমিল্লাতেও আছড়ে পড়ে। আগে থেকেই প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম যুগান্তরদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সুনীতি ও শান্তির চোখমুখের তেজস্বীতা প্রফুল্লনলিনীকে প্রলুব্ধ করে। তাঁদের প্রভাবিত করে প্রফুল্ল বিপ্লবী নেতাদের সঙ্গে পরিচয় করান। নেতাদের সাহচর্যে সুনীতি (Suniti Choudhury) ও শান্তি সংগঠনের কর্মী হয়ে ওঠেন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। নজরুল ইসলাম তাঁর ব্যাঙ্গাত্মক কবিতায় ব্যক্ত করেন। সারা দেশে সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলে সুনীতির মনে নাড়া দেয়। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লায় আইন অমান্য আন্দোলনে ব্রিটিশের পুলিশ বাহিনী সেখানকার কিশোর–যুবকদের ওপর নির্মম-নিষ্ঠুর অত্যাচার চালায়। নারী বিপ্লবীদের বুকে বড় ধাক্কা লাগে। তাঁরা ভাবতে থাকেন দেশ থেকে ইংরেজ  বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত পরিত্রাণ নাই। শোভাযাত্রার ওপর পুলিশের লাঠিচার্জে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহগুলি দেখে তাঁদের মনে আরও বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠে।

প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম ও সুনীতি, শান্তির কানে আসে বিপ্লবীদের হাতে গার্লিক ও সিমসন হত্যার সংবাদ। ভাবেন পিছিয়ে না থেকে আমরাও কিছু করে দেখাব! বিপ্লবী দাদাদের নির্দেশে বন্দুক চালনা, কুস্তি, লাঠিখেলা ও ছোরা চালানোর প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেন বীরেন্দ্র ভট্টাচার্য ও সতীশ রায়। গোপনে ময়নামতি পাহাড়ে গিয়ে সুনীতি চৌধুরী ও শান্তি ঘোষ প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। রিভলবরের ট্রিগারে একজনের তর্জনী না যাওয়ায় মধ্যমার ব্যবহার করে গুলি ছোড়া শিখত। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের প্রথমার্ধে কুমিল্লায় একটি ছাত্র কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে একটি ছাত্রী সঙ্ঘ তৈরি হয়। সেই ছাত্রী সঙ্ঘের সভানেত্রী হন প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম। সম্পাদিকা শান্তি ঘোষ ও ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন সুনীতি চৌধুরী। সংগঠনের ছাত্রীরা হন কনফারেন্সের শৃঙ্খলাপরায়ণ নিয়ম মাফিক স্বেচ্ছাসেবীকা। সুনীতির দায়িত্ব সংঘের ছাত্রীদের ড্রিল আর প্যারেড শেখানো। ৫০/৬০ জন নিয়ে  গোপনে প্রতি পাড়ায় কুস্তি, লাঠিখেলা, ছোরা-বন্দুক চালনা শিক্ষার সঙ্গে স্বদেশি বই সরবরাহ করে, দেশের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের স্বাধীনতা আন্দোলনে উৎসাহিত করতেন।(Suniti Choudhury)

এতে সংগঠন মজবুত হয়ে সারা কুমিল্লাজেলা হতে দেশের অন্যত্র বিপ্লব উৎসবের জোয়ারে ভাসে। ওই সময়ে কুমিল্লাজেলায় বদলি হয়ে আসেন স্টিভেন্স নামে এক অত্যাচারি জেলাশাসক। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও বিপ্লবীদের ধরপাকড় করে অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাংলার মানুষ। বিপ্লবী সুনীতি চৌধুরী ও শান্তি ঘোষদের পরীক্ষা দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ সমাগত। নেতারা চান কুমিল্লার মাটিতেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্সকে হত্যা করে ব্রিটিশ শক্তিকে উচিত শিক্ষা দিতে। সেই মতো সুনীতি ও শান্তিকে অপারেশনের পূর্ণ ছক বুঝিয়ে দেন। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়। কুমিল্লার ফয়জুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর সকাল। শান্তি ঘোষ বাড়িতে বলেন, স্কুলের সমাবর্তন উৎসবে স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্বে যাচ্ছি। শাড়ি পরে ব্লাউজের তলায় পিস্তল গুঁজে গায়ে চাদর জড়িয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন। বাইরে ঘোড়ার গাড়ির শব্দ শুনে বেরিয়ে আসেন। গাড়ি আসামাত্র উঠে বসেন। গাড়িতে আগে থেকেই সুনীতি বসে রয়েছেন। দাদাদের নির্দেশ মতো গাড়ি সোজা পৌঁছয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বাংলোয়। চাপরাশিদের হাতে খামে মোড়া সাঁতার প্রতিযোগিতার নিমন্ত্রণপত্রটি তুলে দেন। জেলাশাসক স্টিভেন্স বাইরে বেরিয়ে আসেন। আসেন মহকুমাশাসক নেপালচন্দ্র সেন। নিমন্ত্রণপত্রের কোথাও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর না থাকায় ম্যাজিস্ট্রেট কথা বললে মেয়েরা বলেন, স্যর বিষয়টি লিখে দিন।(Suniti Choudhury)

[আরও পড়ুনঃ Yuvraj Singh: ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপে যুবিকে নেওয়া হতো না” সেদিনগুলির কথা তুলে ধরলেন কার্স্টেন]

ম্যাজিস্ট্রেট লেখা শুরু করতেই বিলম্ব না করে শান্তি-সুনীতিদের ৪৫ ও ২২ ক্যালিভারের রিভলবার একই সঙ্গে গর্জে ওঠে। সামনাসামনি সুনীতির (Suniti Choudhury) গুলি মাথায় লাগাতে ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্স মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারান। চারিদিকে হই হট্টগোল, ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। ম্যজিস্ট্রেটের রক্ষীরা সুনীতি ও শান্তি দে-কে জাপটে ধরে ফেলেণ। পাগলা ঘণ্টা বেজে ওঠে। উপস্থিত লোকেরা শান্তি-সুনীতিদের বেজায় প্রহার ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। দ্রুত ডিআইবি অফিসার সদলবলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রহারের হাত থেকে তাঁদের রক্ষা করেন। সেলে আলাদা আলাদা জায়গায় বসিয়ে জেরা করতে থাকেন।অফিসারদের অনেক চেষ্টাতেও তাঁদের মুখ থেকে একটি কথাও জানা সম্ভব হয় না। নিয়ে যান কুমিল্লা জেলে। পরের দিন আনা হয় প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম ও চট্টগ্রামের মেয়ে অনন্ত নন্দীর ভাগনে ইন্দুমতী সিংহকে। ইন্দুমতী কুমিল্লায় এসেছিলেন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলার অর্থ সংগ্রহে। ক’দিন বাদে সুনীতি ও শান্তিকে আনা হয় কলিকাতার আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে।

কোর্টে মামলা শুরু হয় ১৮ জানুয়ারি ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে। মামলা চলার সময় দু’জনের হাস্যোজ্জ্বল মুখে গুণগুণ স্বদেশি গান শুনে কোর্টের সবাই বিস্মিত। মামলার দ্বিতীয় দিনে বসতে না পেয়ে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকেন শান্তি-সুনীতি। তারপর থেকে মামলার শেষদিন পর্যন্ত চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়। বিচারপর্ব শেষ করে মহামান্য কোর্ট রায় ঘোষণা করে, ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি। সুনীতি ও শান্তি জীবনের সর্বসত্ত্বা কেন্দ্রীভূত করে ফাঁসির আদেশের অপেক্ষায় প্রহর গুণছিলেন। মাত্র ১৪/১৫ বছরের অষ্টম শ্রেণির নাবালিকাদের মহামান্য কোর্ট ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের আদেশ শোনান।

[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal/]

সেই সময়ে দুই কিশোরী সুনীতি-শান্তির বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে সারা বাংলায় এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বাংলার নারী সমাজ তখন শত আঘাত, নির্যাতনে লাঞ্ছিতা হয়েও নির্বাক নীরবে সয়েছেন। কখনও প্রত্যাঘাতের কথা মাথায় আনেননি। জেলের ভেতরে শান্তিকে দ্বিতীয় ও সুনীতি চৌধুরীকে তৃতীয় শ্রেণির কয়েদি করে। কখনও রাখা হয় পরস্পরকে বিছিন্ন করে। মেদিনীপুর, প্রেসিডেন্সি, রাজশাহী, হিজলি প্রভৃতি কারাগারে তাঁদের স্থানান্তরিত করে রাখে। কারাগারে তৃতীয় শ্রেণির কয়েদিদের মানবিক মর্যাদাহীন সমস্ত অসম্মানজনক শাস্তি দেওয়া হতো। মোটা চালের ভাত চিবোতে না পারলেও না’গিলে উপায় ছিল না। ডাল দিত কাঁচাগন্ধ, হলুদ রঙের জল। তরকারি বলতে স্বাদহীন একটা ঘ্যাঁট। যেন সবেমাত্র খেত থেকে তুলে এনেছে। গলা দিয়ে নামার অযোগ্য। এত অনাচার অত্যাচার সত্ত্বেও তাঁরা কণ্ঠভরা সুরমাধুর্যে জেলখানা মাতিয়ে রাখতেন। অসহায় কারাবন্দি সুনীতিকে অল্প সময়ের জন্য অসম রাজবন্দি কয়েদিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দিত। বেশি সময় কাটত সাধারণ কয়েদির মতো নিঃসঙ্গ কারাজীবন।(Suniti Choudhury)

তাঁর পরিবারকে ধ্বংসের প্রচেষ্টা চালায় ব্রিটিশ প্রশাসন। দুই দাদাকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি রাখে। বন্ধ করে বাবার পেনশন। ছোট ছোট সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে কষ্টের শেষ নাই। আত্মীয় স্বজনেরা পাশে দাঁড়ালে পুলিশ তাঁদের অন্যায় ভাবে নির্যাতন করে। সত্যি রাজনৈতিক বন্দির পরিবারটি সেদিন কতখানি স্থিতিশীল বিপন্ন, অসহায়তার শিকার বোঝানো অসম্ভব। জেলের অন্দরে ও বাইরে দুই বিপ্লবীর বাড়িতে পুলিশি অত্যাচারের কথা অন্যান্য বিপ্লবীদের মনে বীজমন্ত্র হয়ে গেঁথে যায়। অনেকের ধারণা, ক্ষোভে পড়ে প্রতিশোধের নেশায় ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম রেলওয়ে ক্লাব আক্রমণ হয়। লৌহকপাটের প্রাচীরে ঘেরা কারাগারে জীবনের সাত সাতটি বসন্ত কাটে সুনীতি ও শান্তির। অবশেষে গান্ধিজির আন্তরিক প্রচেষ্টায় অন্যান্য রাজবন্দিদের সঙ্গে সুনীতি ও শান্তি মুক্তি পান ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের এক সকালে। জেলমুক্ত সুনীতি ও শান্তি দুজনেই পড়াশুনা করে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাশ করেন। তারপর শান্তি ঘোষ করেন আইএ, সুনীতি চৌধুরী করেন আইএসসি। (Suniti Choudhury)

পরে সুনীতি এমবি পাশ করে ডাক্তার হয়ে দুস্থ-পীড়িত মানুষদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। সমাজে কল্যাণকর আরও অনেক কাজ করেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ২৪ পরগনার প্রদ্যুৎ ঘোষকে বিবাহ করে দাম্পত্য জীবনে জড়িয়ে পড়েন। কিশোর বয়সে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেমে কারাবন্দি জীবনে ও বাইরে পরিবারসহ অশেষ বেদনাভরা যন্ত্রণা দুঃখ কষ্ট হাসি মুখে বরণ করেন। ডাক্তার হয়ে সমাজের সেবায় ব্যস্ততার মাঝে ১২ জানুয়ারি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে সুনীতি চৌধুরী পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে অমরধামে যাত্রা করেন। রেখে যান আন্তরিকতায় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী উত্তরসুরিদের, সংগ্রামে জাগ্রত চেতনাবোধ। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে লড়াকু নেত্রী সুনীতি চৌধুরীর নাম।