কলকাতারাজ্যের খবর

Bengali Language Movement: বিহার ছেড়ে কেন বাংলার অন্তর্ভুক্ত হয় পুরুলিয়া ? জানেন ইতিহাস

১৯০৫ সালে ইংরেজ সরকার বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরেই সারা বাংলা জুড়ে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় আন্দোলন সংঘটিত হয়

Truth Of Bengal: নয়ন কুইরী, পুরুলিয়া: বাংলা ভাষার জন্য জীবন বলিদান করেছেন বহু মানুষ। কখনও ঢাকার রাজপথ রক্তে লাল হয়েছে আবার কখনও শিলচর। এবং শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে বাংলার। বাংলাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি কোন শক্তি। ইংরেজরা বাঙালির ঐক্য ভাঙতে চেয়েছিল। বঙ্গভঙ্গ মানে নি বাঙালি। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ আইন রদ করতে বাধ্য হয়েছিল ইংরেজরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বাঙালিদের ওপর জুলুমবাজি শুরু হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মন্তব্য করেছেন, যিনি বাংলায় কথা বলবেন তিনি বাংলাদেশি চিহ্নিত হবেন। এই নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাঙালি সমাজ। বাঙালির ওপর এই নির্যাতনের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদে নেমেছেন তিনি (Bengali Language Movement)।

[আরও পড়ুনঃ Development showdown: মোদি বললেন ‘৫৪০০ কোটির উন্নয়ন’, তোপ দেগে তৃণমূল— ‘ভাষণ নয়, কাজ চাই’]

১৯০৫ সালে ইংরেজ সরকার বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরেই সারা বাংলা জুড়ে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় আন্দোলন সংঘটিত হয় অবশেষে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় ইংরেজ সরকার। তবে ১৯১২ সালে বাংলা প্রদেশের সঙ্গে থাকা বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল মানভূম জেলাকে বিহার প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। পরাধীন ভারতে কংগ্রেসের অধিবেশনে সিদ্ধান্ত হয়েছিল স্বাধীনতার পরে ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠন করা হবে। কিন্তু বিহার প্রদেশের মানভূম জেলা বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও থেকে যায় বিহার প্রদেশের মধ্যে। বিহার সরকার স্বাধীনতার পর সমস্ত স্কুল কলেজ ও সরকারি অফিসে হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেন। বাংলা ভাষায় পঠন পাঠন বন্ধ করে দেওয়া হয় বিভিন্ন স্কুলে। যার ফলে চরম সমস্যার মধ্যে পড়ে মানভূম জেলার বাংলা ভাষাভাষী মানুষজন। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর বিহার প্রদেশের মানভূম জেলায় আরো এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের সূচনা হয়। মানভূম জেলার তৎকালীন কংগ্রেসের নেতৃত্ব তথা স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বাংলা ভাষার পক্ষে দাবি তোলেন (Bengali Language Movement)।

FB POST: https://www.facebook.com/truthofbengal

১৯৪৮ সালের ৩০শে এপ্রিল বান্দোয়ান থানার জিতান গ্রামে জেলা কংগ্রেসের অধিবেশনে এই বিষয়ে বিশেষ আলোচনা বসে। তবে তৎকালীন জেলা কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতা আন্দোলনের বিপক্ষে থাকায় তৎকালীন জেলা কংগ্রেসের ৩৮ জন সদস্য কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন সংগঠন ‘লোকসেবক সংঘ’ গঠন করে বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যার প্রথম সারিতে ছিলেন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা মানভূম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি অতুলচন্দ্র ঘোষ, সম্পাদক বিভূতিভূষণ দাশগুপ্ত সহ মানভূম জননী লাবণ্যপ্রভা ঘোষ, অরুণ চন্দ্র ঘোষ, ভজহরি মাহাতো, হেম মাহাতো, পদক মাহাতো, চৈতন মাঝি, নকুল সহিস, ভীম মাহাতো, নিতাই সিং সরদার, সত্যকিঙ্কর মাহাতো সহ অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। বিস্তীর্ণ মানভূম জেলা জুড়ে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হয়। গ্রামে গ্রামে মিটিং মিছিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন সংঘটিত হতে থাকে মহাত্মা গান্ধীজীর আদর্শে সম্পূর্ণ অহিংস ভাবে। এরপর আসে ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে মানভূমের মাতৃভাষা বাংলা রক্ষা আন্দোলনের লক্ষ্যে গঠিত নতুন সংগঠন লোকসেবক সংঘের পক্ষ থেকেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়। এই সাধারণ নির্বাচনে মানভূম উত্তর ও মানভূম দক্ষিণ দুটি আসনেই প্রার্থী দেয় ভাষা আন্দোলনের সৈনিকরা। মানভূম দক্ষিণ কেন্দ্রে সাধারণ ও সংরক্ষিত দুটি আসনে জয়ী হয় দুই ভাষা সেনানি ভজহরি মাহাতো ও চৈতন মাঝি। ১৯৫২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ১২ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭টি আসনে জয় লাভ করে ভাষা সেনানীরা। যার ফলে বিহার বিধানসভা ও লোকসভায় মানভূমের বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপিত হয়। লোকসভায় প্রথম বাংলায় বক্তব্য রাখেন মানভূম দক্ষিণ কেন্দ্রের সাংসদ ভজহরি মাহাতো। মানভূমের জনসাধারণ ভাষা আন্দোলনের জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মানভূমের ঐতিহাসিক লোকসংস্কৃতি গুলিকে। যার মধ্যে টুসু গান ছিল অন্যতম। টুসু গানের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে আন্দোলনের প্রচার চলতে থাকে। সাংসদ ভজহরি মাহাতো ভাষা আন্দোলনের জন্য টুসু গান বাঁধেন। যার মধ্যে একটি গান ভাষা আন্দোলনের থিম সং হিসেবে পরিণত হয় (Bengali Language Movement)। ‘

শুন বিহারী ভাই, তোরা রাখতে লারবি ডাং দেখাই…’ এই ঐতিহাসিক টুসু গানটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে। প্রতিটি মিটিং মিছিলে সর্বত্রই এই গানটি গাওয়া হয়। বিহার সরকারের বিরুদ্ধে লেখা এই গানটি আন্দোলনকারীদের আরোও উজ্জীবিত করতে থাকে। আর এই গানটি লেখার জন্য সাংসদ ভজহরি মাহাতকে গ্রেপ্তার করে বিহার পুলিশ। সাংসদ থাকাকালীন তাকে ২২ মাস জেলে যেতে হয় এই গান লেখার জন্য। বাংলা ভাষার দাবিতে লেখা একটি গানের জন্য একজন সাংসদকে ২২ মাস জেলে থাকতে হয়েছে এই ঘটনা সারা ভারতবর্ষে বিরল। সাংসদ ভজহরি মাহাতো জেলের ভেতরে থাকলেও তার লেখা গান ছড়িয়ে পড়েছিল জন মানুষের মধ্যে। আর আন্দোলন গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ায় তৎকালীন বিহার পুলিশের পক্ষ থেকে বা হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে নিস্তার পায়নি ৮ থেকে ৮০। তবে এই বৃহৎ আন্দোলন চলেছিল মহাত্মা গান্ধীর দেখানো নীতি ও আদর্শের উপরে। সত্য ও অহিংসার উপর ভিত্তি করে। কোন রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম নয়, সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই চলেছিল এই বৃহৎ আন্দোলন। বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিং এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায় বাংলা বিহার সংযুক্তিকরণের বিল পাস করে। আর তারপরেই আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে। ১৯৫৬ সালের ২০শে এপ্রিল তৎকালীন মানভূম জেলার পুঞ্চা থানার পাকবিড়রা গ্রাম থেকে ঐতিহাসিক পদযাত্রা শুরু করে মানভূম জেলার ভাষা সেনানিরা। কলকাতার উদ্দেশ্যে ছিল এই পদযাত্রা। ১০২৫ জন সত্যাগ্রহী এই পদযাত্রায় শামিল হন। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহকে উপেক্ষা করে অবশেষে সত্যাগ্রহীরা পৌঁছায় কলকাতায়। সেখানে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গ্রেপ্তার হন সত্যাগ্রহীরা। অবশেষে বাংলা বিহার সংযুক্তি করনের থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় বিহার সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরপর ভাষা কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বিহার প্রদেশের বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল মানভূম জেলার বিস্তীর্ণ অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় (Bengali Language Movement)।

১৯৫৬ সালের পয়লা নভেম্বর মানভূম জেলার পুরুলিয়া সদর মহকুমার ১৬ টি থানা নিয়ে পুরুলিয়া জেলা নামে পশ্চিমবঙ্গে যুক্ত হয় এবং বাংলা ভাষার স্বাধীনতা পায়। তবে বাংলা ভাষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় মানভূম জেলার ধানবাদ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার বাংলা ভাষাভাষী মানুষ সঙ্গে পুরুলিয়া সদর মহকুমার পাঁচটি থানা চাস, চন্দনকিয়ারি, পটমদা, ইছাগড় ও চান্ডিল থানা এলাকার মানুষজন সহ ধলভুম এলাকার বাংলা ভাষাভাষী মানুষজন। স্বাধীন ভারতের বৃহত্তম বাংলা ভাষা আন্দোলন, মানভূম জেলার বাংলা ভাষা আন্দোলনের ফলে শুধুমাত্র ভাষার স্বাধীনতার দাবিতে একমাত্র একটি জেলার সৃষ্টি হয়েছিল। সেটি হলো পুরুলিয়া জেলা। সম্পূর্ণ অহিংস ও রক্তপাতহীন আন্দোলন এবং সফলতম বাংলা ভাষা আন্দোলন। সারা দেশ কেন সারা বিশ্বেও এই ধরনের আন্দোলন খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাছাড়া ১৯৫৬ সালের পহেলা নভেম্বর দিনটিতে পুরুলিয়া জেলার বঙ্গভুক্তির পরে এবং বিহারের পূর্ণিয়া জেলা ভেঙে উত্তর দিনাজপুর জেলা গঠনের পরে পশ্চিম বঙ্গের বর্তমান মানচিত্রের রূপ পায়। ফি বছর ১লা নভেম্বর দিনটি লোকসেবক সংঘের পক্ষ থেকে বঙ্গভুক্তি দিবস হিসেবে পালন করা হয় এবং মানভূমের ঐতিহাসিক বাংলা ভাষা আন্দোলন ও ভাষা সেনানিদের স্মরণ করা হয়। ইদানিং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কোথাও কোথাও ছোটখাটো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করলেও পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন বা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন এপর্যন্ত দিনটি সরকারিভাবে কখনো পালন করেনি। অথচ এই দিনটিতেই পশ্চিমবঙ্গের আজকের মানচিত্র পূর্ণতা পেয়েছে (Bengali Language Movement)।

যদিও পুরুলিয়ার সিধু কানু বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে এই ইতিহাস স্থান পেয়েছে। কিন্তু স্কুল পাঠ্যসূচিতে বা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে স্থান পায়নি। বাম অমলে পুরুলিয়া জেলার বঙ্গভুক্তির ৫০ বর্ষপূর্তিতে পুঞ্চা থানার পাকবিড়রাতে একটি স্মারক নির্মানের কাজের সূচনা হয়েছিল। এই কাজের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। কিন্তু সেই কাজও দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ ছিল। অবশেষে বেশ কয়েক বছর আগে সেই কাজ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেই স্মারক নিয়ে তেমন উৎসাহ নেই জেলা ও রাজ্য প্রশাসনের। শুধুমাত্র ভাষার ভিত্তিতে আন্দোলন গঠিত হওয়া পুরুলিয়া জেলা সদরেও এই ভাষা আন্দোলনের কোনো স্মারক নেই। ভাষা আন্দোলনের সৈনিকদের স্মৃতিতে গড়ে ওঠেনি কোন প্রতিষ্ঠান। যার ফলে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণই অজানা মানভূম জেলার এই ঐতিহাসিক মাতৃভাষা বাংলা রক্ষার আন্দোলনের ইতিহাস। সারা বিশ্ব বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহীদদের এবং শিলচরের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে উক্ত দিনগুলিতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সহ ভাষা আন্দোলন বিষয়ক ঐতিহাসিক দিনেও ব্রাত্যই থেকে যায় মানভূম জেলার ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস? লোকসভায় প্রথম বাংলায় বক্তব্য রাখা গান্ধীবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা সাংসদ ভজহরি মাহাতোর জীবন সংগ্রাম ও ইতিহাস ব্রাতই থেকে যায়। স্মৃতির আড়ালে ধীরে ধীরে ঝাপসা হচ্ছে মানভূমের ভাষা আন্দোলনের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস। এখনো বেশ কয়েকজন ভাষা সেনানি জীবিত রয়েছেন যারা পদব্রজে পুরুলিয়া থেকে কলকাতা গিয়েছিলেন। ছিনিয়ে এনেছিলেন বাংলা ভাষার অধিকার। আজ তারাও আক্ষেপ করেন। বাংলা ভাষার স্বাধীনতার ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মানচিত্রের পূর্ণতার ইতিহাস স্মৃতির পাতায় ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে চলেছে (Bengali Language Movement)।

এই বাংলা ভাষার আন্দোলন থেকেই একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও এই বাংলা ভাষার আন্দোলন থেকেই শ্রেষ্ঠ। ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ২১শে বহু রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হয় পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা শহরে। দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে জয় হয়েছে বাংলা ভাষার। ভাষার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ‘বাংলাদেশ’। উত্তর পূর্ব ভারতের আসামের বরাক উপত্যকার বাংলা ভাষী অঞ্চলের মানুষও মাতৃভাষা বাংলা রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিল। আসাম সরকারের অসমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র সরাকারী ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেছিল তার বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল গণআন্দোলন। যেহেতু ঐ অঞ্চলের জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল বাংলাভাষী। এই আন্দোলনে ১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে আসাম পুলিশের গুলি শহীদ হন ১১ জন ভাষা সেনানী। ১৯ মে দিনটি শিলচর ভাষা দিবস নামেও পরিচিত। এই আন্দোলনের ইতিহাসও ইতিহাসের পাতায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণে রাখতে এবং মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলকে সম্মান জানাতে জাতিসংঘ ২১শে ফ্রেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক বাংলা ভাষা আন্দোলন বা আসামের বরাক উপত্যকার শিলচরের বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সারা বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত হলেও স্বাধীন ভারতবর্ষের এক কোণে আজও ব্রাত্য থেকে গেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাংলা ভাষা আন্দোলন ‘ মানভূমের বাংলা ভাষা আন্দোলন’ (Bengali Language Movement)।

Related Articles