রাজ্যের খবর

শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব রূপায়ণ, সব ক্ষেত্রে কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী

Not just promises, but actual implementation, the Chief Minister has kept his word in all areas

Truth Of Bengal: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা উপভোক্তরা পেয়েছেন। নবান্ন সভাঘর থেকে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার সূচনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে অনেক উপভোক্তার হাতে সরাসরি চেক তুলে দিয়েছিলেন। কথা দিয়েছিলেন দু-তিন দিনের মধ্যে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছে যাবে। সেই মতো উপভোক্তারা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। এবার বাড়ি তৈরীর কাজে হাত দিচ্ছেন দরিদ্র দুঃস্থ মানুষগুলো।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও কার্যত ভাঙা বাড়িতেই কোন রকমে মাথা গুঁজে থাকতে হয়েছিল এই মানুষগুলোর। ভরা বর্ষায় মাটির দেওয়াল ভেঙে মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজনের। কেন্দ্রীয় সরকারের আবাস যোজনার টাকা না পাওয়ার কারণেই সেই মর্মান্তিক মৃত্যু বলে দাবি করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাজ্যের এবারের অর্থ বাজেটে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যদি কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার অর্থ না দেয় তো রাজ্য সরকার টাকা দিয়ে দরিদ্র মানুষের বাড়ি বানিয়ে দেবে। কেন্দ্র কথা রাখেনি। নানান অজুহাত দেখিয়ে বাংলার গরীব মানুষের হকের টাকা আটকে দিয়েছে।

দিল্লি থেকে বারে বারে বাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে খতিয়ে দেখে গিয়েছে বাড়ি তৈরীতে প্রকৃত অর্থ খরচ হয়েছে কিনা। না, কোন গরমিল খুঁজে পাইনি। উল্টে বাংলার কাজের প্রশংসা করে গিয়েছেন। তারপরও কোনো এক অজানা কারণে বাংলার গরীব মানুষগুলো কেন্দ্রের আবাস যোজনার অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাংলার সরকার প্রতিশ্রুতি মতো সেই অর্থ দিয়ে বাড়ি বানানোর কাজ করছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে আবাস যোজনার টাকা দেওয়ার উদ্বোধন করেন। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেলেন উপভোক্তারা। মঙ্গলবার নবান্নে ‘বাংলার বাড়ি’র টাকা দেওয়ার উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম দফায় এর জন্য খরচ হচ্ছে ৬৫৬৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

আবাস যোজনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একাধিকবার কেন্দ্রীয় দল এসেছে ও রিপোর্ট দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যা যা বলা হয়েছে রাজ্য সরকার সেটা করেছে। তবুও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে এখানকার মানুষদের। ‌ কলকাতার রেড রোডে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে ধরনায় বসেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তবুও কেন্দ্রের টনক নড়েনি। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্য সরকার আবাস প্রকল্পে টাকা দেবে।

সেই মতো ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা দিল সরকার। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব রূপায়ণ ঘটাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মা মাটি মানুষের সরকার। এর আগেও কন্যাশ্রী থেকে স্বাস্থ্য সাথী বা লক্ষ্মীর ভান্ডার – একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর সব ক্ষেত্রে কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারও কথা রাখলেন। নির্বাচনের আগে বা পরে যখন যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তাইতো যারা নির্বাচনের সময় এসে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান তাদের বিশ্বাস করেনি এরাজ্যের মানুষ। যে কোনো নির্বাচনে বারবার বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন কাদের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে। কেনই বা তাদের এই আস্থা তার প্রমাণ এই প্রতিশ্রুতি পূরণ।

Related Articles