দৃষ্টিশক্তি ৮৫ ভাগ হারিয়েছেন, তবুও জীবন যুদ্ধে থেমে থাকেননি কৃষ্ণনগরের মন্দিরা আচার্য
There is no 'light' in her own eyes, the teacher is enlightening the society

The Truth of Bengal: পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে দুবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। আর সেই ধাক্কায় ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৮৫ ভাগ হারিয়েছেন এবং বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি অচিরে হারাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবুও জীবন যুদ্ধে থেমে থাকেননি। সমাজের জন্য লড়াই চালাচ্ছেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা মন্দিরা আচার্য। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পেয়েছিলেন ন্যাশনাল স্কলারশিপ। ভর্তি হয়েছিলেন পিএইচডিতেও। স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। তবে কিছু ঘটনা ঘুরিয়ে দেয় তার জীবনের মোড়।
কলেজে পড়াকালীন হঠাৎই দেখা দেয় সেই দুরারোগ্য রোগ। ধরা পড়ে ব্রেনের পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের রোগ। অস্ত্রোপচারে হয়তো তিনি কখনও তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন না। এমনকী চলে যেতে পারে তার স্মৃতিশক্তিও। এমনই জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা যা বলেছিলেন, তাই হয়েছে। মনের শক্তি শারীরিক শক্তির থেকে অনেক বেশি প্রবল। আর সেই কারণেই শত বাঁধা পেরিয়েও আজ তিনি সকলের মামনি। বর্তমানে তিনি একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সেই ব্যস্ততার মাঝেও সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। প্রতিদিন সকালবেলা স্কুলে যাওয়ার আগে আদিবাসী পাড়ায় যান। বাচ্চাদের দুধ-বিস্কুট খাওয়ান। এরপর স্কুল থেকে ফিরে এসে কৃষ্ণনগর স্টেশনে ভবঘুরেদের জন্য প্রতিদিন রান্না করেন তিনি। তারই মাঝে বাজার করতে হয়। রাতে তাঁরা যাতে পেটপুরে খেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে নিজের হাতে রান্না করেন। এরপর শেষে নিজের ছেলের জন্য সময় দেন। বছরের প্রতিটি দিন তাঁর এই লড়াই চলে। চেষ্টা করেন সমাজকে আর একটু আলোকিত করতে।
আদিবাসী পাড়ার প্রায় ২৫০ জন ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে প্রতিদন নিজে হাতে করে দুধ-বিস্কুট খাওয়ান। এভাবেই চলে আসছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। এই সমাজের সন্তানরা সঠিক খাবার পায় না। তারা অপুষ্টির শিকার হয়। তাদের কথা ভেবেই এমন কাজ করে চলেছেন মন্দিরা দেবী। ওই শিশুদের মামনি মন্দিরা দেবী এখানেই দায়িত্ব শেষ না করে পেটপুরে খেতে না পাওয়া ভবঘুরেদের জন্যও সহায়। সমাজকে এই ভাবে আলোকিত করে চলেছেন মন্দিরা দেবী। আন্তর্জাতিক নারী দিবস সার্থক এমন বীরাঙ্গনাদের জন্য।






