
The Truth of Bengal: বাংলার নানা ভাষা,নানা মত ও সংস্কৃতিকে সমান মর্যাদা দিচ্ছে বাংলার সরকার।মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া হচ্ছে আদিবাসীদের।এখন কোনও আদিবাসীকে জমি থেকে হঠানো যাবে না,আদিবাসীদের জমি সহ সমস্তধরণের অধিকার নিশ্চিত করেছে রাজ্য সরকার।বুধবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে বিশ্ব আদিবাসী দিবস অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা আদিবাসী কায়দায় শাড়ি পরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রীকে। এরপরই আদিবাসী মহিলাদের হাতে হাত রেখে তাঁদের তালে পা মেলান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাচের ফাঁকেই আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর মঞ্চে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ঢামসা-মাদল তুলে দেওয়া হয় বেশ কয়েকজনের হাতে। ধামসাও বাজান তিনি।
মমতার বার্তা বিজেপি শাসিত মণিপুর থেকে মধ্যপ্রদেশ-উত্তরপ্রদেশে আদিবাসীদের অত্যাচার হলেও এখানে নিশ্চিন্তে রয়েছে জনজাতি সমাজ।বিজেপি সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চাপিয়ে দেওয়ায় তার বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী ।বলেন,আদিবাসীরা যে স্বতন্ত্র সত্তা, সংস্কৃতি নিয়ে চলছে তার ওপর কোনও খবরদারি মানবে না বাংলার সরকার। ভারতছাড়ো আন্দোলন উদযাপনের দিনে ঐক্য-সংস্কৃতির বাঁধন শক্তিশালী করার কথাও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়।ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী যেমন ছিলেন তেমনই ১৩টি জেলায় ১৮টি ব্লকে রাজ্য সরকারের তরফে মহতী অনুষ্ঠান হয়।জঙ্গলমহলে আরও উন্নয়ন ও তৃণমূল স্তরে পরিষেবা প্রদানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক প্রধান জানান।পিছিয়ে পড়া জঙ্গলমহল কিভাবে উন্নয়নের আলোক শিখায় ভরে উঠেছে তার বিস্তারিত তথ্যও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘বাংলা’ ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরে কোনও কোনও মহল বিতর্ক তৈরি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।মুখ্যমন্ত্রী জানান,মাতৃভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সাঁওতালি, নেপালি, রাজবংশী, বাংলার মতো যে কোনও ভাষা ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে বেছে নিতে হবে। বাকি দুটি ভাষা থাকবে ঐচ্ছিক। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন ঝাড়গ্রামের প্রতিটা ব্লকে একটি করে সাঁওতালি মাধ্যম স্কুল তৈরি করা হবে, সেখানে হস্টেলের সুবিধাও থাকবে। একইসঙ্গে সেখানে ইংরেজিও পড়ানো হবে। সরকারি অনুমোদিত বি.এড কলেজও এখানে শুরু করা হবে।’ কেন্দ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাংলার টাকা আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, আদিবাসী সহ সর্বস্তরের মানুষের পাশে থাকবে।বিকল্প প্রকল্পে অন্ন সংস্থানের সুযোগ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। সামগ্রিক আদিবাসী উন্নয়নের লক্ষ্যে দেওয়া হচ্ছে পেনশন। ৩ লক্ষ জয় জহার প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপক রয়েছেন।মুখ্যমন্ত্রীর আরও ঘোষণা ,ঝাড়গ্রাম-কালিংপংয়ে হবে আদিবাসী ভবন।বিশ্বআদিবাসী দিবসে জনজাতি-মূলবাসী মানুষ থেকে পিছিয়ে পড়াদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।






