Kanailal Dutta: স্বাধীনতার বীজ বুনেছিলেন কানাইলাল দত্ত, আজ তাঁর স্মৃতি হারানোর পথে
যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কানাই লাল পড়াশোনা করেছে বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছে সেটাও এখন অবহেলিত।
Truth of Bengal: কানাইলাল দত্ত। যিনি ভারতে বিপ্লবের বীজ বুনেছিলেন।দেশকে স্বাধীন করার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতেও পিছপা হননি। মৃত্যুর শতবর্ষের পরেও তাঁর বিপ্লবের ভাবনা দেশভক্ত মানুষের মনে রয়ে গেছে। স্বাধীনতার ৭৮বছর পরেও চন্দননগরের বিপ্লবের আঁতুরঘর এখনও উপযুক্ত মর্যাদা পায়নি বলে স্থানীয়রা মনে করেন। বিপ্লবীর মামার বাড়িতে একটি জীর্ণ ঘরে রয়েছে। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান তো দূরের কথা,সেই ঘর ঢেকে রয়েছে বিজ্ঞাপনের ব্যানারে। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কানাই লাল পড়াশোনা করেছে বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছে সেটাও এখন অবহেলিত। কানাই লাল দত্তের নামে চন্দননগরের বিখ্যাত স্কুল কানাইলাল বিদ্যামন্দির (ইংরেজি বিভাগ )জরাজীর্ণ অবস্থা। স্বাধীনতার জন্য যে বিপ্লবী বলিদান দিয়েছিল। তার স্মৃতি ক্রমশই ম্লান হয়ে যাচ্ছে চন্দন নগর থেকে।স্কুলের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ভেঙে পরছে।ছাদ নষ্ট হয়ে জল পড়ছে।সমস্ত আগাছা গ্রাস করেছে গোটা স্কুলটিকে। (Kanailal Dutta)
[আরও পড়ুনঃ Fire Breaks: আনন্দপুরের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কিত এলাকার মানুষ]
কবি –সাহিত্যিক ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে নিয়ে লিখেছিলেন, ‘দ্বাপরে কানাই ছিল নন্দের নন্দন, কলিতে তাঁতির কুলে দিলা দর্শন, তাহারে ছলিয়াছিল অক্রুর গোঁসাই, গোঁসাইকে কানাই দিল বৃন্দাবনে ঠাঁই, গোঁসাই হল গুলিখোর কানাই নিল ফাঁসি, কোন চোখে বা কাঁদি বল কোন চোখে বা হাসি।(Kanailal Dutta)
স্মৃতির পাতায় চোখ রেখে অনেকেই বলছেন, চন্দননগরের ছবিটা তখন বেশ আলাদা ছিল। তখন ছিল ফরাসি উপনিবেশ। যে কারণে গঙ্গার তীরের এই শহরের নাম ছিল “ফরাসডাঙ্গা”। ১৮৮৮ সালের ৩০ অগাস্ট চন্দননগরের সর্ষেপাড়ার মোড়ে মামার বাড়িতে ভোর পাঁচটায় জন্ম হয় কানাইলালের। চন্দননগরের জিটি রোডের ওপর সেই বাড়িটির যদিও এখনও ভগ্নপ্রায় দশা। বাড়িটির লাগোয়া রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে কানাইলাল অ্যাভিনিউ। চন্দননগরের রাজবিহারী রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর অধিকর্তা কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন পাখির নাম হল কানাইলাল। চারুচন্দ্র রায়ের কাছেই বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত হন এই বিপ্লবী।(Kanailal Dutta)
[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]
ইংরেজ শাসনে জেলের ভিতর যেভাবে গুলি করে মেরেছিল।তাতে উদ্বুদ্ধ হন বহু বিপ্লবী। চন্দননগর পুর নিগমের মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন কানাইলাল বিদ্যামন্দিরের জন্য হেরিটেজ কমিশনের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম। কমিশনের কথামতো আমরা ডিপিআরও তৈরি করেছিলাম। এই স্কুল সংস্কারের জন্য ৪ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এই অর্থ রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন করব। প্রাক্তনীদের কাছেও আবেদন জানাব। সরিষা পাড়ায় কানাইলালের আবক্ষ মূর্তি যে ঘর রয়েছে সেটার সংস্কারের জন্য আমাদের কাছে আবেদন এসেছে। তা নিয়েও চিন্তা ভাবনা চলছে।


