ঘাটালে সরগরম বাম শিবির, কেন্দ্র-রাজ্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ময়দানে শান্তিনাথ সাতিক
উভয় সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন ১০০ দিনের কাজের ইস্যুতে
সুমন মণ্ডল,ঘাটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দান ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএম প্রার্থী শান্তিনাথ সাতিক এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে কোমর বেঁধে নেমেছেন জনসংযোগে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ঘাটালের গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।
শান্তিনাথ সাতিকের এই প্রচারের মূলে রয়েছে সাধারণ মানুষের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো। বিশেষ করে ঘাটাল কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়া নিয়ে তিনি রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাষিরা ফসল ফলালেও হিমঘর ও বাজার সিন্ডিকেটের চক্করে পড়ে তাঁরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। সরকার আলু চাষিদের এই দুর্দশা নিয়ে নির্বিকার।
অন্যদিকে, কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয় সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন ১০০ দিনের কাজের ইস্যুতে। শান্তিনাথবাবুর দাবি, একদিকে কেন্দ্র টাকা আটকে রেখে গরিব মানুষের পেটে লাথি মারছে, আর অন্যদিকে রাজ্যের দুর্নীতির কারণে প্রকৃত শ্রমিকরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বকেয়া মজুরি না পেয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি আজ খাদের কিনারায়।
এদিন বিভিন্ন এলাকায় পদযাত্রা ও পথসভার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। মানুষের দুয়ারে গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। শান্তিনাথ সাতিকের কথায়, “মানুষ আর ধাপ্পাবাজি চায় না। তৃণমূল ও বিজেপির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে মানুষ এবার বামপন্থীদের ওপরেই ভরসা রাখছে। সর্বত্র আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।”
ঘাটালের এই লড়াইয়ে বামেদের এই সক্রিয়তা তৃণমূল ও বিজেপি শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বলে মনে করছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। মিছিলে লাল ঝাণ্ডার উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আগামী দিনে ভোটের সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।






