Graduate: স্বপ্ন পূরণে কঠিন লড়াই, মেয়ের সঙ্গে স্নাতক মা
এই কথাটাকেই আবারও সত্যি করে দেখালেন উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ার সঙ্গীতা দে।
Truth Of Bengal: স্বপ্ন থাকলেও অনেক সময় সেই স্বপ্ন চাপা পড়ে যায় নানা কারণে। অনেক অপূর্ণতা রেখে কোনও মহিলাকে সংসার জীবনে প্রবেশ করতে হয়। তারপর সংসারের চাপে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ পায় না। কিন্তু কিছু মানুষ এমন আছেন, যারা সেই স্বপ্নকে একটু হলেও বাঁচিয়ে রাখেন। অপেক্ষায় থাকেন সুযোগের। একটু সুযোগ মিললেই চেষ্টা করেন স্বপ্নকে লালন করার। স্বপ্নের সঙ্গে অদম্য ইচ্ছাশক্তি মিলে গেলেই আসে সাফল্য। তখন বয়স হয়ে ওঠে একটা সংখ্যামাত্র। এই কথাটাকেই আবারও সত্যি করে দেখালেন উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ার সঙ্গীতা দে।(Graduate)
[আরও পড়ুন: ChatGPT Suicide: চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনের পর কিশোরের আত্মহত্যা! ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ]
১৯৯৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিতে অকৃতকার্য হয়ে পড়াশোনার ইতি টেনেছিলেন। তারপর বিয়ে, সংসার, সন্তান। এমন নানা কারণে আর পড়াশোনা চালিয়ে হয়নি। কিন্তু, তিনি মনের ইচ্ছাশক্তিকে একেবারে মরে যেতে দেননি। সন্তান বড় হওয়ার পর পরিবারে কাজের চাপ একটু কমলে ২০১৯ সালে ফের মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। পাশ করেন। পরের ধাপ উচ্চমাধ্যমিক। ভর্তি হন বেলঘরিয়ার নন্দননগর আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। মেয়ে সহেলি তখন একাদশ শ্রেণিতে পড়ে অন্য স্কুলে। ২০২২ সালে মেয়ের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক দেন। পাশ করে মা ও মেয়ে ভর্তি হন শ্যামবাজারের মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজে। সংসার সামলে প্রতিদিন আগরপাড়া থেকে কলেজে আসা সহজ ছিল না। তাও সেটা সম্ভব করেছিলেন স্বপ্নকে বাস্তব করা জন্য। অনেক দিনের লড়াইয়ের ফল মিলল। একসঙ্গে মা ও মেয়ে হলেন স্নাতক। মেয়ে পেয়েছেন ৮০ শতাংশ নম্বর, মা পেয়েছেন ৭৫ শতাংশ নম্বর। মেয়ের সঙ্গে স্নাতক হতে পেরে খুশি মা সঙ্গীতা দে।(Graduate)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal
তার সঙ্গে মা স্নাতক হওয়ায় মেয়ে সহেলি দে অত্যন্ত খুশি। একসঙ্গে একই কলেজে পড়লেও সংসারের কাজ সামাল দেওয়ার জন্য মায়ের যে অনেক বেশি ধকল যেত, তা অস্বীকার করেননি মেয়ে। সেই প্রতিকূলতা পেরিয়ে মায়ের এই সাফল্য তাই তার কাছে অনুপ্রেরণারযোগ্য। সংসার সামলে মেয়ের সঙ্গে স্নাতক হয়েছেন। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না। এবার লক্ষ্য এমএ করা। মা ও মেয়ে এক সঙ্গেই চান মাস কমিউনিকেশন নিয়ে পাড়াশোনা করতে।(Graduate)


