History of Cake: রোমান সাম্রাজ্যে কেক ছিল বিলাসী পণ্য! বড়দিনে কেক খাওয়ার প্রথা এল কোথা থেকে?
Truth of Bengal: প্রাচীন খাবারের তালিকায় একেবারে প্রথমসারিতেই থাকবে কেক। বড়দিন মানেই কেক। কিন্তু জানেন কি কবে প্রথম কেক তৈরি হয়েছিল? এখন আমরা যে কেক খাই তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা প্রথম আমলের কেক। তা ছিল অনেকটা পাঁউরুটির মতো। মধু ব্যবহার করা হত মিষ্টি ভাব আনতে। মাঝেমধ্যে বাদাম আর ড্রাই ফ্রুটস ব্যবহার করা হত। খাদ্য ঐতিহাসিকদের মতে বড়দিনে কেক খাওয়া হলেও কেক কিন্তু প্রথমে ইংরেজরা তৈরি করেনি। খাদ্য ঐতিহাসিকরা জানান, প্রাচীন যুগে সাধারণত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কেক পরিবেশন করা হত। জীবনচক্র বোঝাতে কেক গোলাকার হত। আগেকার দিনে কেক হাতে তৈরি করা হত তাই কেকের আকার গোল হত।

অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে বলা হয়েছে ১৩ শতকে প্রথম বার কেক শব্দ বলা হয়েছে। কেক শব্দটি এসেছে কাকা শব্দ থেকে। প্রাচীন মিশরে বেক করার পদ্ধতি ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেককে ফাঁপা ও হালকা করতে ব্যবহার করা হত ইস্ট। রোমান সাম্রাজ্যের আমলে অলিভ অয়েল কেক তৈরির প্রচলন ছিল। খ্রিষ্ট পূর্বের চতুর্থ শতকে প্রাচীন গ্রিক সাম্রাজ্যেও কেকের প্রচলন ছিল। প্রাচীন মিশরে দেব-দেবী আর ফারাওদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হত। স্কটল্যান্ডে কেক তৈরিতে হুইস্কি আর ব্র্যান্ডি ব্যবহার করা হত। বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানে কেক পরিবেশন করা হত। অরেঞ্জ কেকের জন্ম চিনে হলেও তা জনপ্রিয়তা লাভ করে জাপানে।

ফরাসি শেফ আন্তনিন কারেমকে আধুনিক কেক বেক তৈরির জনক বলে মানা হয়। ফরাসি ভাষায় কেককে বলা হয় গাতো (Gateaux) আর জার্মান ভাষায় কেককে বলা হয় টর্ট (Torte)। কেক তৈরির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, রোমান সাম্রাজ্যের পতনের সময় কেক ছিল লাক্সারি আইটেম। এসময়ই ফ্রুট কেক আর ক্রিসমাস কেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রাচীন মিশরে কেক তৈরিতে সিমুইয়ের গুঁড়ো, মধু, মাখন আর ডিম ব্যবহার করা হত। মধ্য যুগে ইংরেজ বেকাররা জিঞ্জার ব্রেড বা আদা দিয়ে তৈরি পাঁউরুটি আর ফ্রুট কেক তৈরি করতেন। ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময় ইউরোপে আধুনিক স্টাইলে কেক তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে কেক তৈরিতে সাদা ময়দা আর বেকিং পাউডার ব্যবহার শুরু হয়। মধ্য যুগে চিনি ছিল দামি জিনিস। তাই কেকে মিষ্টত্ব আনতে মধু ব্যবহার করা হত। রেনেসাঁ আমলে কেক তৈরিতে চিনির ব্যবহার শুরু হয়। ১৭৬৪ সালে প্রথম চকোলেট কেক তৈরি করেন জেমস বেকার ও জন হ্যানন।


