১০৫ কিলোমিটার টানেল পেরিয়ে দিল্লি থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এবার পৌঁছনো যাবে হৃষীকেশ
পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় হৃষীকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ যেতে বর্তমানে গাড়িতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে।
Truth of Bengal: দিল্লি থেকে উত্তরাখণ্ডের চারধাম ভ্রমণের সময় এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যেতে চলেছে। জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের সঙ্গে পাহাড়ি রাজ্যটির যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি আনতে দু’টি বড় রেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। প্রস্তাবিত মিরাট-হৃষীকেশ নমো ভারত করিডোর এবং নির্মাণাধীন হৃষীকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেলপথ চালু হলে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথগামী তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতের সময় নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হৃষীকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেল লাইনের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ১২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল পথের প্রায় ১০৫ কিলোমিটারই তৈরি হচ্ছে সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে, যা হিমালয় অঞ্চলের অন্যতম কঠিন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকৌশল মেগা প্রজেক্ট।
বর্তমানে দিল্লি থেকে মিরাট পর্যন্ত নমো ভারত ট্রেন চালু রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নমো ভারত রুটটি হরিদ্বার ও হৃষীকেশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হলে দিল্লি থেকে হৃষীকেশ পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা। অন্যদিকে, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় হৃষীকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ যেতে বর্তমানে গাড়িতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু নতুন এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে সেই সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টায়। এর ফলে দিল্লি থেকে সড়কপথে কর্ণপ্রয়াগ পৌঁছাতে যেখানে আগে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা লেগে যেত, ভবিষ্যতে সেই পুরো সফরটি মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
কঠিন পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কথা মাথায় রেখেই ১২৭ কিলোমিটার পথের মধ্যে ১০৫ কিলোমিটার টানেলের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এস্কেপ টানেলের ব্রেকথ্রু সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ রেলপথটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, তবে শিবপুরী-ব্যাসী অংশটি ২০২৮ সালের মধ্যেই খুলে দেওয়া হতে পারে।
এই রেল পরিষেবা পুণ্যার্থীদের সরাসরি কেদারনাথ বা বদ্রীনাথ মন্দিরে নিয়ে যাবে না, তবে মন্দিরের কাছের সড়কপথের খুব কাছাকাছি পৌঁছে দেবে। বদ্রীনাথগামী যাত্রীরা কর্ণপ্রয়াগ স্টেশনে নেমে জোশীমঠ হয়ে যাত্রা করতে পারবেন। অন্যদিকে কেদারনাথগামী যাত্রীরা রুদ্রপ্রয়াগ বা তিলানী স্টেশনে নেমে গৌরীকুণ্ডের দিকে যেতে পারবেন। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক ও পুণ্যার্থীদের জন্য এই নতুন রেল রুটটি আশীর্বাদ হয়ে উঠবে, কারণ তাদের আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ি দুর্গম রাস্তায় কষ্ট করতে হবে না। উত্তরকাশী ও আশপাশের ৫টি পাহাড়ি জেলা এই প্রকল্পের ফলে লাভবান হবে এবং স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।


