
The Truth of Bengal,Mou Basu : আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি এরইমধ্যে অসীম ছন্দে গোটা বিশ্বলোকে বেজে উঠেছে। চারিদিকে পুজো পুজো গন্ধ। মহাপুজো দুর্গাপুজোয় শক্তিরূপিনী মা দুর্গাকে মহাশক্তির আধার বলে পুজো করা হয়ে থাকে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে যুগ যুগ ধরে এই মহামায়ার আরাধনা হয়ে আসছে। দুর্গাপুজোর সময় ঠাকুরদালানে বা মণ্ডপে মা দুর্গার ডান পাশে গণেশ ঠাকুরের পাশে বাসন্তী রঙের শাড়ি পরানো ঘোমটা মাথায় বৌ আকারে দাঁড় করানো থাকে কলাবউ। গণেশের পাশে থাকে বলে অনেকেই একে গণেশের বউ বলে জানে। কিন্তু এই তথ্য ঠিক নয়। গণেশের বউ নয় আদতে কলা বউ হল নবপত্রিকার প্রতীক। দেবী দুর্গার ৯টি রূপকে নবপত্রিকার মাধ্যমে পুজো করা হয়। নবপত্রিকাকে কৃষিসম্পদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
নবপত্রিকায় কলাগাছের সঙ্গে ডালিমের ডাল, ধানগাছ, হলুদগাছ, মানকচুগাছ, কালো কচুগাছ, বেলের ডাল, অশোকের ডাল ও জয়ন্তীর ডাল একসঙ্গে বেঁধে তাকে আলতাপাতা ও শ্বেত অপরাজিতার লতা দিয়ে জড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর মহাসপ্তমীর সকালে নবপত্রিকাকে স্নান করানোর পর বাসন্তী রঙের শাড়ি পরানো হয়। মাথায় সিঁদুর লাগিয়ে প্রতিমার ডান পাশে গণেশ ঠাকুরের পাশে রেখে পুজো করা হয়।নবপত্রিকার মাধ্যমে আসলে দেবী দুর্গার ৯টি রূপের পুজো করা হয়। দেবী দুর্গার ৯টি রূপ হল- ব্রাহ্মণী, মাহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বারাহী, নারসিংহী, ঐন্দ্রী, চামুণ্ডা ও কৌশিকী। প্রতিটি রূপের মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে আলাদা পুজো হয়ে থাকে।
কলাগাছকে ব্রাহ্মণী রূপে কল্পনা করা হয়। কালো কচুগাছকে দেবীকালিকা রূপে, হলুদগাছকে দুর্গা রূপে, জয়ন্তী গাছকে কার্তিক রূপে, বেলগাছকে শিবা রূপে, ডালিমগাছকে রক্তদন্তিকা রূপে, অশোকগাছকে শোকরহিতা আর মানকচুগাছকে দেবী চামুণ্ডা রূপে কল্পনা করা হয়েছে।শস্যপূর্ণ বসুন্ধরার কামনায় নবপত্রিকার প্রতিটি গাছকে আলাদা ভাবে পুজো করা হয়। সব গাছকেই সমান ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শাক বা শস্য, গাছপালার মাধ্যমে দেবী দুর্গা পৃথিবীর লালনপালন করেন বলে দেবীর আরেক নাম শাকম্ভরী। নবপত্রিকার প্রতীকী পুজোর মাধ্যমে আসলে কৃষিসম্পদ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণেরই বার্তা দেওয়া হয়।
Free Access






