অফবিট

হ্রদের জলে পশুপাখি পড়লেই হয় পাথর, কোথায় আছে বিভীষিকাময় সেই হ্রদ

কেন এই হ্রদ এতটা ভয়ঙ্কর এবং এর লাল রঙের রহস্যই বা কী?

Truth of Bengal: প্রকৃতির রহস্যময়তা মাঝে মাঝে বিজ্ঞানকেও হার মানায়। পৃথিবীর বুকে এমন কিছু স্থান রয়েছে যা সুন্দর হয়েও ভয়াবহ, আর তেমনই এক বিস্ময়কর সৃষ্টি হল আফ্রিকার তাঞ্জানিয়ার ন্যাট্রন হ্রদ। আপাতদৃষ্টিতে এর মায়াবী লাল জলরাশি পর্যটকদের মুগ্ধ করলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক মৃত্যুফাঁদ। পশুপাখিদের ‘পাথরে’ পরিণত করার ক্ষমতার জন্য এই হ্রদটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কেন এই হ্রদ এতটা ভয়ঙ্কর এবং এর লাল রঙের রহস্যই বা কী?

১) আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়ার ন্যাত্রন হ্রদ। হ্রদের টলটলে জলের রঙ বছরে নানান সময় বদলে যায়। কেনিয়া সীমান্তর কাছে উত্তর তাঞ্জানিয়ার কাছে রয়েছে এই ন্যাত্রন হ্রদ। এই ন্যাত্রন হ্রদ সাঁতরে পাড় হওয়ার চেষ্টা করলে কোনো প্রাণী বা পাখি জলের ছোঁয়া পেলেই দ্রুত জলশূন্যতায় ভুগতে শুরু করে। বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভীষিকাময় হ্রদের খেতাব মাথায় উঠেছে তাঞ্জানিয়ার ন্যাত্রন হ্রদের।

২) আনুমানিক ১৫ লাখ বছর আগে এই ন্যাত্রন হ্রদের সৃষ্টি। ভূমির নীচে শক্তিশালী টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ায় তৈরি হয় পূর্ব আফ্রিকান রিফট বা ফাটল। এর পাশাপাশি অগ্নুৎপাতের কারণে বদলে যায় ভূমির চিত্র। অগ্নুৎপাতে সোডিয়াম মেশানো ছাই মেশে হ্রদের চারপাশে। জল বাষ্পীভূত হয়ে গেলে নীচে পড়ে থাকা সোডিয়াম নুন জমাট বেঁধে যায়।

৩) সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের জলের পিএইচ মাত্রা বেড়ে হয়েছে ১০.৫। অ্যামোনিয়ার মতোই মরচে ধরিয়ে দিতে পারে এই ন্যাত্রন হ্রদের জল। চোখ ও ত্বক জ্বালা জ্বালা করতে শুরু করে হ্রদের জলের সংস্পর্শে এলে।

৪) হ্রদের জলে বাস মাইক্রো অর্গানাইজম Haloarchaea ও Cyanobacteria-র পিগমেন্টের কারণে হ্রদের জল লাল ও কমলা হয়ে যায়। উঁচু থেকে হ্রদের জল টকটকে লাল দেখায়। এমনকি, বিমান থেকেও দেখা যায়।

৫) হ্রদের পাশে যে সব প্রাণী মরে যায় তাদের পাথরের মতো দেখায়। হ্রদের জলে থাকা সোডিয়াম কার্বোনেট প্রাণীদের নিথর দেহ ভালো করে মিশরের মমিদের মতো সংরক্ষণ করে রাখে। পচন অনেক ধীরে হয়। কঙ্কাল শক্ত হয়ে গিয়ে পাথরের মতো দেখায়।

৬) তবে বিভীষিকাময় হ্রদেও ফ্লেমিঙ্গো পাখি হ্রদের জলে থাকা শ্যাওলা খেয়ে বেঁচে থাকে।