
The Truth of Bengal, Mou Basu: অনন্য স্থাপত্যের নিদর্শন হল কোনার্কের সূর্যদেবের মন্দির। ভারতের রহস্যময় মন্দিরের অন্যতম হল কোনার্কের সূর্যদেবের মন্দির। জানেন কী রহস্য ঘিরে রয়েছে সূর্যদেবের মন্দিরকে ঘিরে?
খ্রিষ্টপূর্বের ১২৫০ বছর আগে পূর্ব গঙ্গা সাম্রাজ্যের রাজা প্রথম নরসিংহদেবের আমলে নির্মাণ করা হয় কোনার্কের সূর্যদেবের মন্দির। কিন্তু কোনার্কের সূর্যদেবের মন্দিরের মূল দরজা আজো কোনো এক রহস্যময় অদৃশ্য কারণে বন্ধ। ১২২ বছর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। মনে করা হয়, ১৯ শতকে ভেঙে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় মন্দিরের একাংশের (নাটমন্দির) এর। ধ্বংসের হাত থেকে মন্দিরকে রক্ষা করতে তৎকালীন গভর্নর জন উডবার্ন ১৯০১ সালে মন্দিরের দরজা একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বালি দিয়ে এঁটে দেওয়া হয় দরজা। সেই থেকে এরকমই রয়েছে কোনার্কের সূর্যদেবের মন্দির। সূর্যদেবতার উদ্দেশ্যে এই মন্দির উৎসর্গ করেন রাজা প্রথম নরসিংহদেব। হিন্দু ধর্মে সূর্যদেবতাই গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎস বলে মনে করা হয়।
পুরাণে, সূর্যদেবের রথ ৭ ঘোড়া টেনে নিয়ে যাচ্ছে বলে বলা হয়েছে। সূর্যদেবের রথের আকারে গড়ে ওঠে কোনার্কের সূর্যদেবের মন্দির। মন্দিরের সামনের ও পেছনের অংশে ১২টি পাথরের চাকা রয়েছে। সামনের দিকে রয়েছে ৭টি ঘোড়া। এমন ভাবে গোটা বিষয়টি তৈরি করা হয়েছে যাতে মনে হয় সত্যি সত্যি সূর্যদেবের রথ টেনে নিয়ে যাচ্ছে ৭টি ঘোড়া বা সপ্তার্শ। স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হল ১২টি চাকা। বছরের ১২টি মাসকে বোঝাচ্ছে ১২টি চাকা। প্রাচীন সময় মানুষের ঘড়ি ছিল না। এই চাকা দেখেই সঠিক সময় নির্ণয় করা হত। আশ্চর্যের বিষয় হল, এমনই কোনার্কের মন্দিরের স্থাপত্য যে সূর্যের প্রথম রশ্মি সব সময়ই পড়ে মন্দিরের প্রবেশপথে। মন্দিরের স্থাপত্য লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, একদম ওপরে রয়েছে সিংহ, তার নীচে রয়েছে হাতি আর একেবারে নীচে রয়েছে মানুষ।
সিংহ হল মানুষের ইগো বা অহংভাবের প্রতীক। হাতি মানুষের মনের অবস্থার প্রতীক। অর্থাৎ বোঝাচ্ছে, মনের অহংভাব ও অবদমিত ইচ্ছাকে জয় করলেই একজন ব্যক্তি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারে। এই মন্দিরকে ঘিরে যে রহস্য তার মধ্যে অন্যতম হল, মনে করা হয়, মন্দিরের ভেতরে রয়েছে ৫২ টন ওজন বিশিষ্ট এক “লোডস্টোন” যাকে প্রাকৃতিক চুম্বক বলে করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শক্তিশালী চুম্বকের জোরে মন্দিরের মধ্যে সূর্যদেবের বিগ্রহ বাতাসে ঝুলত। এই চুম্বক এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কোনো জাহাজ উপকূলে ভিড়তেই পারত না। জাহাজের কম্পাস নষ্ট হয়ে যেত। দিকভ্রান্ত হয়ে পড়তেন জাহাজের নাবিকরা। পর্তুগিজ হানাদাররা এই চুম্বক আর সূর্যদেবের মূর্তি নিয়ে চলে যায়। চৌম্বকীয় শক্তি হারাতেই মন্দির দুর্বল হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের ২টি নাটমন্দির ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেকে আবার মনে করে, মন্দিরের নির্মাণ কাজ কখনোই সম্পূর্ণ হয়নি।



