কলকাতা

গবেষণার উদ্দেশ্যে কুমেরু মহাসাগর অভিযানে প্রেসিডেন্সির দুই গবেষক

Two Presidency researchers on Arctic Ocean expedition for research

Truth Of Bengal: প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক, সৌম্যশুভ্র বৈষ্ণব ও স্নিগ্ধা ভৌমিক, কুমেরু মহাসাগরে গবেষণার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। আজ, রবিবার রাতেই তাঁরা মরিশাস পৌঁছবেন এবং সেখান থেকে জাহাজে করে গন্তব্যের পথে পাড়ি দেবেন। এই অভিযানের মাধ্যমে নতুন ইতিহাসও তৈরি করতে চলেছেন স্নিগ্ধা। তিনি হবেন রাজ্যের প্রথম মহিলা গবেষক, যিনি কুমেরু মহাসাগরে অনুসন্ধান চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

পূর্ব ভারত থেকে একমাত্র ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে এই দু’জনই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। বিজ্ঞানী বা অধ্যাপকদের এই ধরনের অভিযানে অংশগ্রহণের নজির থাকলেও গবেষকদের এমন সুযোগ খুবই বিরল। মেরিন বায়োলজির এই দুই গবেষক অনুসন্ধান চালাবেন দক্ষিণ মহাসাগরের ‘প্রিডজ বে’ অঞ্চলে, যা ভারতের অ্যান্টার্কটিকা গবেষণাগার ‘ভারতী’-র কাছেই অবস্থিত। প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে তাঁরা সেখানে গবেষণা চালাবেন।

স্নিগ্ধার গবেষণার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। তিনি জানান, “ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ডিসকভারি বা অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট দেখে জীবজগতের প্রতি আকর্ষণ জন্মেছিল। সেই সঙ্গে বাস্তুতন্ত্র নিয়েও কৌতূহল ছিল প্রবল। এবার কুমেরু মহাসাগরে গবেষণা করার সুযোগ পেয়ে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো লাগছে।” প্রেসিডেন্সির প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার সময়ই তিনি কুমেরু অঞ্চলের গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন, বিশেষত অধ্যাপক সুমিত মণ্ডলের প্রভাবেই।

সৌম্যশুভ্ররও অনুভূতি একই রকম। তিনি বলেন, “টিভিতে দেখেছি, বইয়ে পড়েছি তুষারাবৃত সাগরের কথা। এবার নিজে সেখানে যেতে পারব, ভাবতেই অবিশ্বাস্য লাগছে।”

এই অভিযান পরিচালনা করছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশান রিসার্চ (NCPOR), যা ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয়। এখন পর্যন্ত ১২ বার এই অভিযান হয়েছে, তবে গবেষকদের সরাসরি যুক্ত করার ঘটনা বিরল। ২০২২ সালেও সৌম্যশুভ্র ও স্নিগ্ধার এই অভিযানে যাওয়ার সুযোগ মিলেছিল, কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়। এবার তাঁরা নতুন করে সুযোগ পেয়েছেন।

স্নিগ্ধার কাজ মূলত সমুদ্রতলের দৃশ্যমান প্রাণীদের নিয়ে, আর সৌম্যশুভ্র গবেষণা করবেন আণুবীক্ষণিক জীব নিয়ে। তাঁদের মূল লক্ষ্য নতুন কোনো জীব আবিষ্কার করা। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জীবদের জিনগত বিশ্লেষণ ও প্রজাতিগত বিভাজনের দিকটিও তাঁদের গবেষণার অন্তর্ভুক্ত।

এ বছর উষ্ণস্রোতের কারণে কুমেরু মহাসাগরে বরফ কম জমেছে, ফলে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁরা আরও ভালো সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদী। অধ্যাপক সুমিত মণ্ডল বলেন, “আমার আনা নমুনা নিয়ে আগেও গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়েছে। এবার নতুন নমুনা সংগ্রহ করে তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ করা গেলে আরও অনেক নতুন দিক উন্মোচিত হবে।”

দেশের গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে সৌম্যশুভ্র ও স্নিগ্ধার এই অভিযান নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন অপেক্ষা তাঁদের সাফল্যের খবর শোনার!

Related Articles