অপরাজিত দের হারিয়ে জয়ের হাসি হাসল গুজরাট!

The Truth Of Bengal: বুধবার রাজস্থান বনাম গুজরাটের ম্যাচ ছিল টানটান উত্তেজনায় জর্জরিত। কখনও দেদার বল পিটিয়ে উপস্থিত সকল দর্শকদের চোখ শান্তি করেন রিয়ান পরাগ ও সঞ্জু। প্রথম ইনিংসে প্রথম ব্যাটিং এর সুযোগ পেয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। তারপর, রাখে হরি মারে কে! আর তাদের ওই ইনিংসেই ২০ ওভারে সঞ্জুর দল করে বসেন ১৯৬ রান। যেখানে ৩৮ বলে ৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সঞ্জু। রিয়ান পরাগকেও এদিন দেখা যায় নিজের সেরা দিতে, তিনি মোট ৪৮ বলে ৭৬ রান করেন।
প্রথম ইনিংসে এদিন শান্ত মেজাজের শুভমনকে দেখা গিয়েছিল এক অন্য চেহারায়। যেখানে ১৭তম ওভার চলাকালীন তাকে মাঠে উপস্থিত আম্পায়ার বিনোদ শেশানের দেওয়া ওয়াইড বলের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেননি। আসলে এদিন হয়েছিল কি, মোহিত যখন বল করছিলেন তখনই একটি বল উইকেট থেকে বেশ বাইরে পড়েছিলেন। আম্পায়ার শেশান সেই বলটিকেই ওয়াইডের নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্ত কিছুতেই মানতে রাজি ছিলেন না ম্যাথু। তিনি সেই মুহূর্তেই ডিআরএস নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন অধিনায়ক শুভমনকে। শুভমন সেটির জন্য আবেদন করেনও। তবে সেই বলের রিপ্লে দেখার পর তৃতীয় আম্পায়ার কেএন অনন্তপদ্মনাভন প্রথমে বলেন যে, বলটি বৈধ। কিন্তু মাঠে আম্পায়ারকে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ করেন। কারণ হিসাবে তিনি তখন বলেন যে মোহিতের হাত থেকে বল ছাড়ার আগেই সঞ্জু অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিল। তাতে খুশি হয় গুজরাত শিবির।
View this post on Instagram
তবে এতক্ষণ সব ঠিকই ছিল, বিপত্তির শুরু হয় তখনই যখন দ্বিতীয় বার রিপ্লে দেখেন তৃতীয় আম্পায়ার অনন্তপদ্মনাভন জানান, তাঁর প্রথম পর্যবেক্ষণটি ভুল ছিল। মাঠে উপস্থিত আম্পায়ার বিনোদকে ওয়াইডের সিদ্ধান্তেই থেমে থাকার অনুরোধ করেন তৃতীয় আম্পায়ার। এবং বলা হয় যে এটা ওয়াইড-ই হবে। আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত জানাতেই মেজাজ হারিয়ে বসেন শুভমন। তাছাড়াও গুজরাতের অন্য ক্রিকেটারেরাও এবিষয়ে সরব হতে দেখা যায়। শুভমন ছুটে গিয়েছিলেন আম্পায়ারের কাছে। সেইসময়ই তাঁকে উত্তেজিত ভাবে বিনোদের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায়। আম্পায়ার শান্ত করার চেষ্টা করলেও শুভমনকে বেশ কিছু ক্ষণ ক্ষুব্ধ দেখায় তাঁর এই সিদ্ধান্তের জন্য।
১৫ ওভার যখন শেষ হয় রাজস্থানের রান রেট তখন ১৩৪ রান। হাতে উইকেট থাকার কারণে, শেষ ৫ ওভারে রাজস্থান করে ৬২ রান। যার নেপথ্যে ছিল পরাগ এবং সঞ্জু এর জুটি! তাছাড়াও শিমরন হেটমেয়ারকেও ফুল পারফরম্যান্স দিতে চাওয়ার প্রচেষ্টা দৈখা যায় এদিন। মাত্র ৮ বল বাকি থাকাকালীন মাঠে নামেন তিনি। ৫ বলে ১৩ রান করেই দলকে ১৯০ রান পাড় করিয়ে দিলেন। গুজরাটকে মোট ১৯৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় রাজস্থান।
View this post on Instagram
এদিন গুজরাট যখন তার ইনিংসে খেলা শুরু করে। হলেও প্রথম দিকে কিছুটা বিপাকের মধ্যেই দেখা গিয়েছিল দলের পারফরম্যান্স। ৬৪ রানের জুটি গড়েন সাই সুদর্শন এবং শুভমন গিল। তাঁরা ৮.২ ওভারে দল মাত্র ৬৪ রান করার পর, সুদর্শন মাত্র ৩৫ রান করে স্ট্রাইক আউট হয়ে যান কুলদীপ সেনের বলে। কুলদীপের ১৪০কিমি/ঘন্টা বেগ সম্পন্ন বলের কাছে আত্মসমর্পণ করে বসেন পর পর আরও দুই। তারপর একের পর এক আউট এর বন্যা বয়ে যায় দলে। তবে অধিনায়ক প্রাণপণ চেষ্টা করে গিয়েছিলেন বটে। দলের হয়ে অর্ধশতরান করেন গিল। সেখানেই প্রশ্ন উঠেছিল যে, দলের হয়ে আজকের ম্যাচের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করলেন শুভমন গিল। তিনি কি পারবেন গুজরাট টাইটান্সকে জেতাতে? ৪৪ বলে ৭২ রান করেন তিনি। কিন্তু বড় শট খেলতে গিয়ে যুজবেন্দ্র চহালের বলে স্টাম্পড হয়ে যান শুভমন। মাঠ থেকে হতাশ হয়েই ফিরতে দেখা যায় তাকে। রাজস্থান কিছুটা স্বস্তি পেলেও, এদিন রাহুল তেওয়াটিয়া এবং রশিদ খান ভয় পাওয়ার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। আশা ছাড়েননি। যখন রাশিদ মাঠে নেমেছিলেন, তখনও গুজরাটের জয়ের জন্য দরকার ৪০ রান! আর হাতে ছিল মাত্র ১৫বল। তবে ক্রমশ ধরে খেলার পর রাশিদ খান দিশা দেখান। রশিদ একা ১১ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকার পর শেষ বলে চার হাকিয়ে এত চিন্তার মাঝেও গুজরাটকে তিন উইকেটে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে জিতিয়ে নিজের দলকে এগিয়ে নিয়ে যান।
View this post on Instagram
View this post on Instagram
এরপর তাদের এই জয়ের পর সেলিব্রেশনও করতে দেখা যায়। ইনস্টাগ্রামে সেই সেলিব্রেশনের ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যায় গুজরাট টাইটান্স’কে। যেখানে রাশিদ খান ও শুভমন গিল’কে একসঙ্গে কেক কাটতে দেখা যায়। যা কার্যত ভাইরাল এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়।






