পাক সেনাপ্রধান মুনিরের ক্ষমতা বৃদ্ধি,প্রতিবাদে পদত্যাগ আরও এক বিচারপতির
এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি।
Truth Of Bengal: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একনায়কতান্ত্রিক নীতির ফলে দেশটির বিচার ব্যবস্থা গভীর সংকটে রয়েছে। পাকিস্তানের সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে লাহোর হাই কোর্টের বিচারপতি শামস মেহমুদ মির্জা পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি।
এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শাহবাজ সরকারের একটি বিতর্কিত বিল পাশ করার পর, যা পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেনাপ্রধানের জন্য বিশেষ রক্ষাকবচ এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। নতুন সংশোধনের ফলে সংবিধান সংক্রান্ত সমস্ত মামলা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের পরিবর্তে সাংবিধানিক আদালতে পাঠানো হবে। বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, এটি দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে এবং সেনাবাহিনীকে স্বেচ্ছাচারিতার পথে আরও শক্তিশালী করবে।
গত বুধবার পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিল পাশ করা হয়। এই সংশোধনের ফলে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল থেকে ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এর আগে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে এমন কোনো পদ ছিল না। নতুন বিলে সেনাপ্রধানের জন্য বিশেষ আইনি রক্ষাকবচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারের দ্বারা এই সংশোধনীতে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মনসুর আলি শাহ এবং বিচারপতি আথার মিনাল্লাহ। এরপর লাহোর হাই কোর্টের বিচারপতি শামস মেহমুদ মির্জাও পদত্যাগ করেছেন। একে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও বিচারিক ক্ষেত্রে বিশাল অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।






