দেশ

অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থাকে ‘কটাক্ষ’! কমিটির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি সুপ্রিম কোর্টের

কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়ে আদালত জানিয়েছে, এই তিন ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না

Truth of Bengal: অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের অভিযোগ ঘিরে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে পাঠ্যরচনার সঙ্গে যুক্ত তিন সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। বুধবারের শুনানিতে ওই তিন জনকে পাঠ্যরচনা ও শিক্ষাক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করা হয়।আদালতের নির্দেশে মাইকেল ড্যানিনো, শিক্ষিকা সুপর্ণা দিবাকর এবং আইন গবেষক অলোকপ্রসন্ন কুমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়ে আদালত জানিয়েছে, এই তিন ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁরা কোনও সরকারি বেতনভুক্ত পদেও কাজ করতে পারবেন না এবং ভবিষ্যতে কোনও পাঠ্যক্রম তৈরির সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত  উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এঁরা যদি ভবিষ্যতে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে দায়িত্ব পান, তা হলে পরবর্তী প্রজন্মের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে আদালত জানিয়েছে, এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টরা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন। এদিন আদালত এনসিইআরটি-র জমা দেওয়া হলফনামা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিতর্কিত অধ্যায়ের সংশোধিত সংস্করণ কে লিখেছেন, কে তা পর্যালোচনা করেছেন এবং কোন প্রক্রিয়া মেনে তা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে— সে বিষয়ে হলফনামায় স্পষ্ট তথ্য নেই।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওই কমিটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন পেশাদার আইনজীবী এবং একজন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদকে রাখতে হবে। কমিটি ভোপালের জাতীয় বিচারিক একাডেমী-র সঙ্গে পরামর্শ করে সংশোধিত অধ্যায়ের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করবে এবং পাঠ্যে যাতে কোনও তথ্যগত ভুল না থাকে তা নিশ্চিত করবে। প্রসঙ্গত, বিতর্কের সূত্রপাত অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ের একটি অধ্যায় থেকে। সেখানে বলা হয়েছিল, দুর্নীতি, মামলার জট এবং পর্যাপ্ত বিচারকের অভাব ভারতের বিচারব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ। এই মন্তব্য ঘিরেই আদালতের আপত্তি তৈরি হয়। পরে এনসিইআরটি জানায়, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়টি নতুন করে লেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পাঠ্যবই প্রকাশ করা হবে।

Related Articles