Recruitment Scam: ওড়িশা পুলিশে ৩০০ SI পদ বিক্রি! র্যাকেটের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ১১৪ পরীক্ষার্থী ও ৩ দালাল
ইতিমধ্যেই ১১৪ জন পরীক্ষার্থী ও তিন দালালকে গ্রেফতার করেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। আরও ১৮৬ জন পরীক্ষার্থী পালিয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Truth of Bengal: ওড়িশা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৩০০টি পদ বিক্রির চেষ্টা হয়েছিল। ফাঁস হয়েছে চাকরি বিক্রির এক বিশাল র্যাকেটের। ইতিমধ্যেই ১১৪ জন পরীক্ষার্থী ও তিন দালালকে গ্রেফতার করেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। আরও ১৮৬ জন পরীক্ষার্থী পালিয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ওড়িশা পুলিশের অপরাধদমন শাখা (ক্রাইম ব্রাঞ্চ)-এর তদন্তে সামনে এসেছে ভুয়ো অ্যাডমিট কার্ড তৈরি করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র বদলে দেওয়া হয়েছিল। টাকা দিলেই পরীক্ষার কেন্দ্র এমনভাবে ঠিক করা হত, যাতে প্রতারণার সুযোগ পাওয়া যায়। অবৈধ উপায়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হত।তদন্তে উঠে এসেছে, পরীক্ষার্থীদের নথিপত্র দালালদের কাছেই থাকত। দু’টি বেসরকারি সংস্থা—‘সিলিকন’ এবং ‘পঞ্চসফট’—এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করছে পুলিশ (Recruitment Scam)।
উল্লেখ্য পঞ্চসফটই পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড তৈরির দায়িত্বে ছিল। অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল—প্রথমে ১০ লক্ষ অগ্রিম এবং চাকরি পাকা হলে বাকি টাকা।ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র আর্থিক লাভের জন্য প্রযুক্তিগত কারসাজি করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছিল।এই দুর্নীতির মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে শঙ্কর প্রুস্টি নামের এক ব্যক্তির নাম, যিনি পঞ্চসফটের প্রোমোটার। দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি বেপাত্তা। সূত্রের খবর, তিনি নেপাল হয়ে দুবাই পালিয়ে গিয়েছেন এবং সেখান থেকেই ওড়িশা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। তাঁর এবং আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি করেছে পুলিশ।তাঁকে ধরতে রাজ্য জুড়ে তল্লাশি চলছে (Recruitment Scam)।
প্রসঙ্গত, ওড়িশা পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (ওপিআরবি) গত ১৭ জানুয়ারি ৯৩৩টি এসআই পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। প্রায় দেড় লক্ষ প্রার্থী পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন। মূলত ৮ ও ৯ মার্চ পরীক্ষার দিন ধার্য ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে ৫ ও ৬ অক্টোবর নেওয়া হয়।এই দুর্নীতির ঘটনায় এখন এক লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ওপিআরবি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে, পরে নতুনভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এস কে নাথ জানিয়েছেন, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করার জন্য পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন, দুর্নীতিতে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।ওড়িশা পুলিশের ইতিহাসে এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি এখন রাজ্যের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে (Recruitment Scam)।






