দেশ

নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভে ‘পাকিস্তানি যোগ’! যোগীরাজ্যে রণক্ষেত্র শিল্পাঞ্চল, পুলিশের ওপর ইটবৃষ্টি!

সরকার ঘোষিত বর্ধিত বেতনের তালিকা কারখানার গেটে টাঙানোর দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

Truth of Bengal: বেতন বৃদ্ধি এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগে মঙ্গলবার ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নয়ডার সেক্টর ৮০ এলাকা। এদিন সকাল থেকেই আহুজা কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা ইট-পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোটা শহরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে প্রশাসন। শ্রমিকদের অভিযোগ, দক্ষ এবং অদক্ষ— উভয় শ্রেণির কর্মীদের একই হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে, যা তাঁরা মানতে নারাজ। আন্দোলনকারীদের দাবি, বেতন বৃদ্ধির দায় এড়াতে নয় মাস কাজ করানোর পরেই পুরনো কর্মীদের ছাঁটাই করে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। সরকার ঘোষিত বর্ধিত বেতনের তালিকা কারখানার গেটে টাঙানোর দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, সোমবারই উত্তরপ্রদেশ সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। গৌতমবুদ্ধ নগরের জেলাশাসক মেধা রূপম জানিয়েছেন, এই নতুন বেতন কাঠামো ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে। প্রশাসনের দাবি, বেতন নিয়ে ছড়ানো কিছু বিভ্রান্তিমূলক খবরের জেরেই সোমবার ৪০-৪৫ হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমেছিলেন, যার ফলে সেক্টর ৬২, ফেজ ২ সহ শহরের ৮০টি জায়গায় চরম অশান্তি ছড়ায়। এই শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর দাবি করেছেন, এই অশান্তিতে ‘পাকিস্তানি যোগ’ থাকতে পারে। তাঁর যুক্তি, সম্প্রতি নয়ডা এবং মেরঠ থেকে চার জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। রাজ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার দিল্লি-নয়ডা সংযোগকারী রাস্তাগুলি অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেও, মঙ্গলবার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। পুলিশি টহলদারি চলায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে আম্বেদকর জয়ন্তী উপলক্ষ্যে নয়ডা-গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে, মহামায়া উড়ালপুল এবং সেক্টর ১৫ গোলচক্করসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ট্র্যাফিক নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। আপাতত শিল্পাঞ্চলগুলিতে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘাত না বাঁধে।