দেশ

বিবাহিত হয়েও লিভ-ইন? হাইকোর্টের রায়ে চমক, ‘অপরাধ নয়’ বলেই জানাল আদালত!

লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে বড়সড় পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

Truth of Bengal: লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে বড়সড় পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, একজন বিবাহিত পুরুষ যদি কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার সঙ্গে তাঁর সম্মতিতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তবে সেটিকে আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায়ে উল্লেখ করেছে, “নৈতিকতা ও আইনকে এক করে দেখা উচিত নয়। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক না কেন, আদালতের প্রধান দায়িত্ব ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।” আদালতের মতে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি নিজেদের ইচ্ছায় একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেই সম্পর্কে আইনগত হস্তক্ষেপের কোনও জায়গা নেই।

ঘটনার সূত্রপাত এক মহিলার অভিযোগ থেকে। তিনি পুলিশ সুপারের কাছে জানান, তিনি স্বেচ্ছায় এক পুরুষের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন এবং তাঁর পরিবার তাঁকে ‘অনার কিলিং’-এর হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।

হাই কোর্ট স্পষ্ট জানায়, এই ধরনের ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব হল সংশ্লিষ্ট দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশিকাও এই দায়িত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে এক বিবাহিত যুবক তাঁদের মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে এই সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কিন্তু আদালত এই যুক্তি খারিজ করে জানায়, যেহেতু ওই মহিলা প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ইচ্ছায় সম্পর্কটি বেছে নিয়েছেন, তাই এটি কোনও ফৌজদারি অপরাধ নয়।

পাশাপাশি আদালত ওই মহিলার পরিবারকে নির্দেশ দিয়েছে, তাঁরা যেন ওই দম্পতির জীবনে কোনওরকম হস্তক্ষেপ না করেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকেন।

এই রায়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একদিকে ব্যক্তিস্বাধীনতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নও উঠে আসছে। তবে আইনের চোখে যে ব্যক্তির স্বাধীনতাই সর্বাগ্রে, এই বার্তাই আবারও স্পষ্ট করে দিল হাইকোর্ট।