মিমিকে আমি ছাড়ব না!” পুলিশের জালে ধরা পড়েও স্বমেজাজে তনয় শাস্ত্রী, কী বললেন অভিনেত্রী?
গ্রেফতারির পরই অসুস্থ বোধ করায় ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
Truth of Bengal: অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে মঞ্চে হেনস্তা এবং পুলিশি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বনগাঁর অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে বনগাঁ থানার পুলিশ। তবে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতারির পরই অসুস্থ বোধ করায় ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও হাসপাতালের বেডে শুয়েও তনয় শাস্ত্রীর মেজাজ ছিল চড়া। সেখান থেকেই তিনি মিমিকে দেখে নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যদিও এই হুমকিকে পাত্তা দিতে রাজি নন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, ওই ব্যক্তিকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বাৎসরিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সেখানে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। ক্লাবের সদস্যদের দাবি, মিমির রাত সাড়ে দশটায় আসার কথা থাকলেও তিনি অনেকটা দেরি করে পৌঁছান। রাত পৌনে বারোটা নাগাদ তিনি যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমা শেষের মুখে ছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে রাত ঠিক বারোটায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সময়সীমা মানতে গিয়েই মঞ্চে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বলে দাবি ক্লাব কর্মকর্তাদের।
মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন তনয় শাস্ত্রী আচমকা মঞ্চে উঠে তাঁর গানে বাধা দেন এবং তাঁকে নেমে যেতে বাধ্য করেন। এই ঘটনায় চরম অপমানিত বোধ করে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অভিনেত্রী। অন্যদিকে ক্লাবের পক্ষ থেকে রাহুল বসু ও শোভন দাসরা দাবি করেছেন, তাঁরা মিমিকে কোনও অসম্মান করেননি। শুধুমাত্র সরকারি নিয়ম মেনে সময়মতো অনুষ্ঠান শেষ করা হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার দুপুরে তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ।
পুলিশ যখন তনয় শাস্ত্রীকে আটক করতে যায়, তখন পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। অভিযোগ, ওই জ্যোতিষীর বাড়ির সামনে মহিলারা জড়ো হয়ে পুলিশকে বাধা দেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পুলিশ বাড়ির ভেতরে ঢুকে তনয় শাস্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তনয় শাস্ত্রী সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত জ্যোতিষী পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।






