রাজ্যের খবর

স্যালাইন হাতে দাঁড়িয়ে পুলিশ! প্রাণ বাঁচল জুনিয়ার ডাক্তারের

Police standing in the hand of saline! The life of the junior doctor was saved

Truth Of Bengal : ঝাড়গ্রাম : দেবব্রত বাগ : পুলিশের বিরুদ্ধে সোচ্চার জুনিয়ার ডাক্তাররা। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ। ঠিক তখনই পুলিশের তৎপরতায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের জুনিয়ার ডাক্তার সৃষ্টি এক্কা(৩০) এবং তাঁর পরিবার বেঁচে গেলেন এ যাত্রায়। শুধু তাই নয় হুগলি জেলার হতভাগ্য বিক্রম ভট্টাচার্যের মত বিনা চিকিৎসায় ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজে এসে পড়ে থাকতে হয়নি। শুরু হয়েছে সাথে সাথে চিকিৎসা। লোক কিছু কম থাকায় স্যালাইন ধরে দারিয়ে সেই পুলিশ কর্মী। সোশ্যাল মিডিয়া বা প্রকাশ্যে আন্দোলন কারি ডাক্তাররা যখন পুলিশকে ঘিরে বাপ বাপান্ত করছে তখন পুলিশের অন্য ছবি ঝাড়গ্রামে।

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের পিডিয়াট্রিক্স বিভাগের ছাত্রী ডাঃ সৃষ্টি এক্কা। তার বাবা মা, বোন সহ সকলে ছত্রিশগড় এ যাচ্ছিলেন। ঝাড়গ্রামের ফাঁসিতলা এলাকায় ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর হঠাৎ করেই একটি মাল বাহি ট্রাক ঐ গাড়িটির পেছনে একটি ট্রাক ধাক্কা মারলে সামনে থাকা আারেকটি গাড়িতে গিয়ে ধাক্কা মারে ডাক্তার এর গাড়িটি। সামনে পেছে দুমড়ে যাওয়ায় গাড়িতেই আটকে পড়েন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের পিডিয়াট্রিক্স বিভাগের ছাত্রী ডাঃ সৃষ্টি এক্কা। তার বোন আশা এক্কা, মা কমলাবতী এক্কা, এবং তার বাবা।

সাথে সাথেই এলাকার লোকজন উদ্ধার এর চেষ্টা করলেও ব্যার্থ হয়। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে চেষ্টা করেও বার করা যাচ্ছেনা তাদের। দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌছায় ঝাড়গ্রাম থানার এসডিপিও সামিম বিশ্বাস, আইসি বিপ্লব কর্মকার। আগেই ঘটনা স্থলে ছিলেন মানিকপাড়ার বিট অফিসার। পাশাপাশি কার কাছে গ্যাসকাটার পাওয়া যাবে দ্রুত নিজেরাই আনিয়ে শুরু হয় গাড়ি কেটে বার করার কাজ। স্টার্ট করে রেডি অ্যম্বুলেন্স। এসডিপিও, আইসি, ওসিরাই এক একজন কে বার করে গাড়িতে তুলতে শুরু করলেন। একেকটা গাড়ি রওনা দেয় ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজের দিকে।

না ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য পড়ে থাকতে হয়নি এক্কা পরিবার কে। আহতদের যে কোনোরকম সহায়তার জন্য ওখানেই দাড়িয়ে থাকে পুলিশের একটা টিম। যারা স্যালাইন ধরা থেকে ট্রলি ঠলে বেডে নিয়ে যাওয়া, পরিবারের লোকেদের খবর দেওয়া সবটাই তদারকি করেন। অপর গাড়ির আহতদের ও উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। কোমোর থেকে নিচের অংশ গুরুতর জখম হন সৃষ্টি এক্কা। তার মাও বোনের অবস্থাও যথেষ্ট জটিল।

তার পরিবার মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ এ স্থানান্তর করতে চাইলে গভীর রাতে সেই পুলিশের সহযোগীতায় আহতদের পরিবারকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা যায়। ঝাড়গ্রাম এমএসভিপি অনুরুপ পাখিরা জানান ঐ সময় প্রতিটা মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ যে ভাবে দ্রুততার সাথে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে তাতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক উপকার হয়েছে। সাথে সাথে চিকিৎসা পাওয়ায় আশঙ্কা জনক হলেও এখন অনেকটাই বিপদমুক্ত।

Related Articles