কলকাতারাজনীতি

‘আমরা কোনও বৈষ্ণম্য করি না’! মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Mamata Benarjee

The Truth of Bengal: বিধানসভায় বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এদিন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর বিষয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলকে নতুন করে গড়া হচ্ছে এবং ওটা আমার হৃদয়ের মেলবন্ধন। প্রতিটা দফতর কিন্তু কাজ করে সারা বাংলার জন্য, এখানে কোনও বৈষম্য নেই। আমি কয়েকদিন আগে দেখলাম যে সারা ভারতবর্ষে যে ঘর ঘর জল দেবে, এটা নাকি ওনারাই করছেন। তখন নির্বাচন চলছিল। তিনি এটা প্রচারে বলতেই পারেন”। এদিনের বক্তব্যে কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি বলেন, “কোভিডের সময় দুই বছর সাংসদদের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কোভিডের সময় আমাদের ১৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছিল, সব রাজ্যের‌ই হয়েছিল। তাই আমরা বলেছিলাম জিএসটি- কমপেনশেসন দুই বছরের জন্য বাড়াও। আমাদের লস যেটা হল, সেই টাকা কিন্তু আমরা পেলাম না। তার আগে হল নোটবন্দি। কয়েকদিন আগে শুনলাম দুই হাজার টাকা নাকি বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে বা ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখন আবার দেখছি সব ঠিক আছে। এর মধ্যে রহস্য কি বুঝতে পারছি না। এটা কি ইলেকশনের জন্য করা হয়েছিল? আমি জানি না”।

বাম আমলে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে কখনই কোনও উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন। এই প্রসঙ্গে এদিন বিধানসভায় বলেন, “ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর এসব জায়গায় কেউ ভয়ে যেতো না। বাম আমলে দেখতাম প্রতি বছর সাতশো থেকে আটশো মানুষ মারা যাচ্ছে। দুপুর দুটোর পর কেউ বাইরে বের হতো না। আমি তখন বিরোধী দলে ছিলাম। আমি গিয়েছিলাম। আমি তখন প্রায় ৪৫ দিন জঙ্গলমহল সফর করেছিলাম। সেই সময় ওখানকার মানুষের দূর্দশা চোখে দেখেছি। আমি নিজে মাটির ঘরে জন্মেছি। তাই মাটির প্রতি আমার একটা টান আছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী হ‌ওয়ার পর প্রথম বার যখন ঝাড়গ্রামে গিয়েছিলাম তখন একদিন আমি পায়ে হেঁটে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। আমাকে দেখে তখন ওখানকার মানুষ আস্তে আস্তে ঘর থেকে বের হতে শুরু করলো। আমি তাদের বললাম আপনারা ভয় পাবেন না, আমি আপনাদের পাশে আছি সবসময়”।

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “শুধু একটা জিনিস করতে হবে, যারা বন্দুক নিয়ে ভয় দেখায় তারা সেটা করতে পারবে না। আমি তাদের  চাকরি দেবো। পুরুলিয়ায় এখনও কিছু জায়গায় আমাদের সমস্যা আছে। কারণ জাইকা-র সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। ওরা একটু টাইম নেয়। ‘জল জীবন মিশন’ এর ক্ষেত্রে জমির টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, রক্ষণাবেক্ষণের টাকা দিচ্ছে রাজ্য, কিন্তু উনি বলছেন উনি করেছেন।‌ বিজ্ঞাপন দিয়ে বলছেন আপনি করছেন। ৭৫ শতাংশ টাকা আমরা দিই আর ২৫ শতাংশ টাকা দেয় কেন্দ্র। তাও ওদের নাম করতে হবে ! আমরা ইতিমধ্যেই ৭০ লক্ষ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দিয়েছে। আগামি এক বছরের মধ্যে বাকি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেবো”।

Free Access

Related Articles