
The Truth of Bengal: সন্তানদের স্থান মায়ের গর্ভে হলেও, ছেলে মেয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মায়ের স্থান এখন খেলার মাঠে।নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী, সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি ! নচিকেতার এই গানের লাইনের আবারো বেনজির দৃষ্টান্ত পাওয়া গেল নদীয়ার শান্তিপুর বাগআঁচড়া গ্রামে। সেখানে শীত গ্রীষ্ম বর্ষা ফুটবল খেলার মাঠে বসবাস করেন ৯০ বছর বয়সী অসুস্থ বৃদ্ধা নীলা শিকদার। তিনি জানান, তিনি স্বামী হারা হয়েছেন বহু বছর আগে তখন ছেলেমেয়েরা খুব ছোটো। এলাকা সূত্রে জানা যায়, স্বামী দিনমজুরের কাজ করতেন। তাই অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে ছেলে মেয়েকে মানুষ করেছেন। এক্ষেত্রে মানুষ কথাটি বড়ই বেমানান বরং বড় করে তুলেছেন বলাই ভালো। সম্পত্তির ভাগ পেয়ে মাকে দেখাশোনার ভয়েই ছেড়ে শান্তিপুরে শহরে থাকেন। বাবার পৈতৃক ভিটেতে থাকা অপর এক ছেলে তাকে বাড়ি থেকে বার করে দেয়, তিনি অবশ্য ভিন রাজ্যে কাজ করেন। বলা ভালো তার স্ত্রী শাশুড়িকে গলা ধাক্কা দিয়ে বাড়ির বাইরে বের করে দিয়েছেন, অসুস্থ হয়ে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করার কারণে। সেই থেকেই তিনি পার্শ্ববর্তী খেলার মাঠে আশ্রয় নেন , সেখানে তিনি নিজেই রান্না করে খান।
যেদিন জোটে সেদিন খাই না জুটলে না খেয়েই দিন কাটান। তবে কথায় আছে যার কেউ থাকেনা তার ভগবান থাকে। প্রতিবেশীরা এবং ওই এলাকাবাসীরা তাকে সাধ্য মতন সহযোগিতা করে । স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রূপালী বিশ্বাস জানান , এই বিষয়টা নিয়ে বৃদ্ধার ছেলের সাথে আমাদের অনেক বার কথা হয়েছে , কিন্তু ওনার ছেলে কোন মতেই ওনাকে বাড়িতে তুলতে রাজি নন । যদিও বা এর আগে পঞ্চায়েতের চাপে মাকে বাড়িতে নিয়েছিলেন কিন্তু মারধর করে পুনরায় বের করে দেন । তবে পঞ্চায়েতের তরফ থেকে আবারো যদি কোন সাহায্য করা যায় সেই চেষ্টা এবারেও করব ।বাগআঁচড়া মহিলা সমিতির সভাপতি শিখা বিশ্বাস জানান , এর আগেও একবার ওই বৃদ্ধাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছিল ওনার বৌমা , তখন আমরাই গিয়ে ওই বৃদ্ধাকে চিকিৎসা করিয়ে আবার বাড়িতে তুলে দিয়ে এসেছিলাম।
বুঝিয়েছিলাম মা-বাবা বৃদ্ধ হলে শিশুর মতন হয়ে যান, মাতৃ গর্ভের সন্তান হিসাবে অন্তত যেন মানিয়ে নিয়ে থাকেন, কিন্তু আবারো বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে। এ বিষয়ে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন যদি কড়া মনোভাব নিয়ে, ওই বৃদ্ধাকে তার নিজস্ব বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন এবং ছেলে বৌমাকে বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার আইন বুঝিয়ে দেন তাহলে হয়তো এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না।দেশে আইন আছে, জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন, মানবাধিকার কমিশন রয়েছে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে, হয়তো সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতার অভাব রয়েছে সেই কারণেই আজও তিনি নিজের স্বামীর ভিটে ছেড়ে দিন রাত কাটাচ্ছেন খেলার মাঠে।
Free Access






