একসময় জমিদার বাড়ির দুর্গা পুজোয় এসেছিলেন লর্ড ক্যানিং! আজও ঐতিহ্যের দালানে কৈলাস ভবন মেতে ওঠে পুজোর আনন্দে
Durga pujo 2023

The Truth of Bengal: অনেকেই বলেন গ্রামে দুর্গা পুজো কম হলেও পুজোর আলাদা প্রাণ আছে।মহামায়াকে চিন্ময়ী থেকে মৃন্ময়ী রূপে পাওয়ার জন্য পুজোপ্রেমীদের আরাধনা সত্যিই অতুলনীয়।আর সেই গ্রামবাংলার পুজোয় বারুইপুরের রামনগরের জমিদার বাড়ির পুজোর আলাদা আকর্ষণ আছে।কথিত আছে, রামনগরের প্রথম জমিদার কৈলাস ঘোষ। তাঁর নামে বাড়ি, নাম কৈলাস ভবন। তখন ইংরেজ আমল। কৈলাসের পুত্র নরেন ঘোষ বাড়িতে দুর্গা পুজো শুরু করেন। সেই দুর্গা পুজোর একসময় এসেছিলেন লর্ড ক্যানিং।নরেন ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছিলেন লর্ড ক্যানিং।ক্যানিং ছাড়াও এই পুজোয় এসেছিলেন অসংখ্য গুণী মানুষ।
রূপোলী পর্দাতেও এই গ্রাম্য আবহের কথা উঠে এসেছে। উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এখানে সিনেমার শ্যুটিং করে গিয়েছেন।সেই ঐতিহ্যের দালানে এখন চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন ঘোষ পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা সবাই পুজোর কয়েকদিন মিলিত হন বাড়ির দুর্গা দালানে। আগে ষষ্ঠীর দিন রাঁধুনির তৈরি কচু, দেশী চিংড়ির ঝোল রান্না খেতে প্রচুর মানুষ আসতেন। অষ্টমীর দিন এখনও লুচি, ফুলকপির ডালনা খেতে গ্রামের মানুষজন ঢেলে আসেন। তবে সংখ্যা এখন আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
সপ্তমী থেকে দশমী চালকুমড়ো বলি হয়। সন্ধি পুজো দেখতে একাধিক গ্রামের মহিলারা জড়ো হন। এই পরিবারের আর এক সদস্য প্রিয়জিৎ সেন বলেন, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে আমাদের পুজো হয়। জমিদারি প্রথা মেনে এখনও বিসর্জনের দিন কাঁধে চাপিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে দুর্গাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির পুকুরে। সেই পুকুর হেদুয়ার পুকুর বলে এলাকায় পরিচিত। এই বিসর্জন পুকুরে নাকি এককালে ইংরেজ সাহেবরাও স্নান করতেন।
Free Access






