লাইফস্টাইল

বিয়ে টিকিয়ে রাখার পাঠ এবার কলেজে! চালু হচ্ছে বিশেষ কোর্স

এবার কলেজে বসেই শেখানো হবে দাম্পত্য জীবন সামলানোর কৌশল!

Truth of Bengal: প্রেম আছে, বিয়েও হচ্ছে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সম্পর্কে দেখা দিচ্ছে ফাটল! সামান্য মনোমালিন্য থেকে শুরু হওয়া অশান্তি কখনও কখনও গড়াচ্ছে বিচ্ছেদ পর্যন্ত। ক্রমবর্ধমান বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সমাজের বিভিন্ন মহলে। আর সেই সমস্যা মোকাবিলায় এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে গোয়া সরকার। ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা ম্যানেজমেন্টের পাঠ তো অনেক হল, এবার কলেজে বসেই শেখানো হবে দাম্পত্য জীবন সামলানোর কৌশল! কীভাবে সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করতে হয়, কীভাবে মানিয়ে চলতে হয়, এমনকী কীভাবে ঝগড়া-অশান্তি সামলে সংসার টিকিয়ে রাখতে হয়, সেই শিক্ষাই মিলবে নতুন কোর্সে। গোয়া কলেজ অফ হোম সায়েন্স এই অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর থেকেই চালু হতে পারে বিশেষ সার্টিফিকেট কোর্সটি। কলেজ পড়ুয়ারাই মূলত এই কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। বৈবাহিক সম্পর্কের নানা দিক, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানসিক বোঝাপড়া এবং মতের অমিলের মধ্যেও কীভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সেসব বিষয় শেখানো হবে পড়ুয়াদের।

কেন হঠাৎ দাম্পত্যের পাঠ দেওয়ার ভাবনা?

আসলে গোয়ায় ক্রমশ বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। তাঁর উদ্যোগেই বিয়ের আগে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের বৈবাহিক জীবনের জন্য প্রস্তুত করার ভাবনা সামনে এসেছে। সরকারের ধারণা, বিয়ের আগে সম্পর্কের দায়িত্ব, প্রত্যাশা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হলে ভবিষ্যতে বিচ্ছেদের ঘটনা কমানো সম্ভব হতে পারে। জানা গিয়েছে, গোয়া কলেজ অফ হোম সায়েন্সে ২০০৭ সাল থেকেই সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবন সংক্রান্ত বিষয় পড়ানো হচ্ছে। তবে এবার আলাদা করে সার্টিফিকেট কোর্স চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কলেজের অধ্যাপক নাদিশা কোয়েলহোর বক্তব্য, সম্পর্কের জটিলতা এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ঠেকাতেই এই ধরনের কোর্স চালুর চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।

তিন বছরে ৩ হাজারের বেশি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা!

পরিসংখ্যানও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গোয়ার বিভিন্ন আদালতে ৩ হাজারেরও বেশি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে এমন বহু যুগল রয়েছেন, যাঁরা একসময় ভালোবেসেই একে অপরের সঙ্গে সংসার শুরু করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কই পরিণতি পেয়েছে বিচ্ছেদে। অধ্যাপক নাদিশা কোয়েলহোর মতে, অনেক ক্ষেত্রেই মানসিকভাবে যথেষ্ট পরিণত হওয়ার আগেই অল্পবয়সি যুগল বিয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে সংসারের দায়িত্ব, প্রত্যাশার চাপ কিংবা মতের অমিল সামলাতে না পেরে বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন তাঁরা। তাই বিয়ের আগেই যদি সম্পর্কের বাস্তবতা সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা যায়, তাহলে দাম্পত্য জীবনের বহু জটিলতা এড়ানো সম্ভব।