প্রাথমিকে এবার আমূল বদল! এক একটি ক্লাসের দায়িত্বে থাকবেন একজন শিক্ষক, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে প্রশাসনিক, পরিকাঠামো ও পঠনপাঠন সংক্রান্ত বৈঠকে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে
Truth of Bengal: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষার মানোন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করছে নতুন সরকার। এবার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের প্রতিটি শ্রেণির দায়িত্বে থাকবেন একজন করে শিক্ষক। শুধু তাই নয়, পড়ুয়াদের পড়াশোনার অগ্রগতি এবং সার্বিক উন্নতির উপর নির্ভর করতে পারে শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধিও। বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে প্রশাসনিক, পরিকাঠামো ও পঠনপাঠন সংক্রান্ত বৈঠকে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজ্য সরকার বাংলাকে জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতা করেছিল। এবার শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক স্তর থেকেই নতুন পদ্ধতি চালু করতে চাইছে সরকার।
স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, প্রাথমিক স্তরে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক বা ভূগোলের জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষক রাখার প্রয়োজন নেই। প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের পড়ানোর যোগ্যতা সব শিক্ষকেরই রয়েছে। তাই এক একটি শ্রেণির দায়িত্ব একজন শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “সোমবার একজন, মঙ্গলবার একজন শিক্ষক থাকবেন। ক্লাস বদলে বদলে পড়াবেন তাঁরা।” এই পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের সার্বিক অগ্রগতির দায় থাকবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের উপর। উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এবছর যে পড়ুয়ারা ভর্তি হল, তার দায়িত্ব আমার দীপক বর্মনের। ধরা যাক, ক্লাসে ২০টি শিশু রয়েছে। বছর শেষে তারা কী করল, কতটা শিখল, সে দায় সম্পূর্ণ আমার।” কোনও শ্রেণির ২০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ১৫ জন যদি পড়তে না পারে বা তাদের সার্বিক উন্নতি না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে জবাবদিহি করতে হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত কমানোর দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে প্রতি ২৬ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক স্তরে একজন শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ৫০ থেকে ৫২ জন পড়ুয়া। ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পর এই অনুপাত কমিয়ে একজন শিক্ষকের দায়িত্বে ২০ জন পড়ুয়া রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরেও শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত কমানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষকদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কাজের মূল্যায়নের উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। দীপক বর্মনের বক্তব্য, প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত থাকলে কাজের প্রতি নিষ্ঠা বাড়ে। সেই সূত্রেই শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধির বিষয়টি পড়ুয়াদের উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে সরকারের। মন্ত্রী বলেন, “আমরা ওই শিক্ষককে প্রশ্ন করব পরবর্তী বছরে কেন তাঁর বেতনবৃদ্ধি হবে? এর ব্যাখ্যা চাওয়া হবে শিক্ষকের কাছে।” বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ২১টি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্ষদের সভাপতি এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি। বৈঠকে স্কুলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠনের মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা উঠে আসে।






